চবি শিক্ষা অনুষদে পিঠা পার্বণ ও হিম আড্ডা

আহমেদ জুনাইদ,চবি

একটা সময় ছিল শীত আসা মানেই বাঙালিদের জন্য উৎসব ছিলো।হরেক রকম রসালো পিঠার স্বাদে মেতে থাকতো বাঙালি।কিন্তু বর্তমান সময়ে পিঠার উৎসব সবাই যেন ভুলতে বসেছে।আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আক্ষেপ
টা আরো বেশি।

পরীক্ষা,ক্লাস,প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি তে ব্যাস্ত থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই গ্রামে যেতে পারেন না,পিঠার স্বাদও নিতে পারেন না।তাদের
সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর প্রাঙ্গণে বসেছিলো পিঠা পার্বণ ও হিম আড্ডার।

৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার ইন্সটিটিউটের ৬ষ্ঠ ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের সাবেক
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ।
তিনি বলেন, অসাধারণ ঐতিহ্যের প্রবাহের ভেতর বাঙালির গর্বের বিষয় পিঠা। নাগরিক জীবনে যখন সবকিছু যান্ত্রিকতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, সীমিত হয়ে
পড়ছে আমাদের মানবিক বোধ। তখন আমাদের সেই গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য এই উপাদান নিয়ে শুরু হল পিঠা উৎসব। এটা শুধু একটি উৎসব নয়, এটা
নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতার মাঝে নির্মল আনন্দের খোরাকও।

নাগরিক ও ভোগবাদী সমাজের সংস্কৃতিতে এই উৎসব আবহমান বাংলার সংস্কৃতির
চিরন্তন উপাদান তুলে ধরার এ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। আমরা নানা আয়োজনে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিব শতবর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি। আর মুজিববর্ষে আইইআর শিক্ষার্থীদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ১০ টি স্টলে ছিল পাটিসাপটা, পুলি, পাতা পিঠা,কডম,বিনি হোয়া,ছেসমা, ঝাল পিঠা, নারকেল পিঠা, ভাপা
পিঠা, নকশা পিঠা, ঝিনুক পিঠা, জামদানি, সূর্যমুখী, গোলাপি,দুধপুলি, রসপুলি, দুধরাজ, সন্দেশ, আন্দশা, মালপোয়া, পাজোয়াসহ নাম না জানা ভিন্ন স্বাদের অসংখ্য পিঠা।আয়োজকদের তথ্যমতে উৎসবে সব মিলিয়ে প্রায় একশ রকমের বিভিন্ন স্বাদের পিঠা ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী কে পিঠা খেতে ও খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গিয়েছে।
পিঠা উৎসবে ঘুরতে আসা আইন অনুষদের ইসরাফিল বলেন, সচরাচর পিঠা খাওয়ার সুযোগ আসে না।পরীক্ষার কারণে এবার বাড়িতেও যেতে পারিনি।তাই কালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে যখন এই উৎসবের পোস্টার দেখি সাথে সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই আসবো এখানে।যা আশা করেছিলাম তার চেয়েও বেশি পিঠা এখানে আছে।বন্ধুদের সাথে নিয়ে এসেছি,পিঠা খাচ্ছি,উপভোগ করছি।

পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্রী সুস্মিতা বড়ুয়া পূর্ণা বলেন শীতের বিদায়ের সময়ে পিঠা খাওয়াটা আর মিস করিনি। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম উৎসব প্রাঙ্গণে। নানানরকম পিঠার সমারোহ দেখে মনপ্রাণ ভরে উঠল। আয়োজনে কোনকিছুর ত্রুটি ছিল না।
পিঠা উৎসব পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ২০১৭-১৮ সেশনের তারেক রহমান বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিঠাপুলির সাথে সচরাচর পরিচিত হতে
পারে না।অনেকেই গ্রামীণ পিঠার ঐতিহ্য ভুলতেই বসেছে।তাদের জন্যই আমাদের এই আয়োজন।আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের গ্রাম বাংলার হারিয়ে
যাওয়া পিঠা,পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী পিঠাগুলো রাখার জন্য।এখানে দশটি স্টলে প্রায় একশ রকমের পিঠা ছিলো।সকলে উপভোগ করেছে বলে আমরা আশাবাদী।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email25