চবির ভর্তি পরীক্ষায় অভিযোগের হিড়িক 

মোহাম্মদ আজহার, চবি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় নানান অসঙ্গতি দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। এরমধ্যে এবছর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো; ভর্তি নির্দেশিকায় অস্পষ্টতা রেখে মানোন্নয়ন দিয়ে মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি নিয়ে তালবাহানা। ফলে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কতৃপক্ষ বলছেন নীতিমালার বাহিরে কেউই ভর্তি হতে পারবেন না।
এছাড়াও চবির ‘ডি’ ইউনিটে ন্যাশনাল কারিকুলামের প্রশ্নে বাংলা অপশন না থাকায় ৪১৬ জন শিক্ষার্থীর গত ৬ নভেম্বর পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এমনকি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ঘটে যাওয়া এই অসঙ্গতি নিয়ে সেসময় প্রশাসনের কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করার বিষয়টিও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মাঝে সমালোচিত হয়েছে।
সর্বশেষ ডি ইউনিটের ফলাফল প্রকাশের পর যেই তিনটি অভিযোগ উঠেছিলো সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রথমত ডি ইউনিটের প্রকাশিত ফলাফলে সরাসরি অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে মানোন্নয়ন দেয়া শিক্ষার্থীদের। দ্বিতীয়ত মানোন্নয়ন না দিয়েও অনেক অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর ফলাফলে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। যা অন্য যেকোনো ইউনিটের তুলনায় অনেকগুণ বেশী। এছাড়া প্রায় কয়েকশো শিক্ষার্থীর অভিযোগ ; উত্তরপত্রে নাম্বার কম পেয়েছেন তারা। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি অংশে সঠিক হওয়া সত্ত্বেও নাম্বার কম পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। যাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতেও প্রস্তুত রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল না পাওয়া আল আমিন আহমেদ বলেন, পরীক্ষার আগে প্রায় এক ঘন্টা সময় ছিলো। আমি অনেকবার ওএমআর পেপার চেক করেছি। কোনো ভুল হয়নি। সবকিছু ঠিক ছিলো কিন্তু ফলাফলটা পেলাম না।
নাম্বার কম পেয়েছেন এমন অভিযোগ করে ডি ইউনিটের পরীক্ষার্থী জিহাদ হাসান বলেন, আমি সবকিছু মিলিয়ে দেখলাম ৭৮ নাম্বার পাই। কিন্তু আমাকে দেয়া হয়েছে ৬৩ নাম্বার। এখন আমার পজিশন ১০ হাজারেরও বাহিরে। তাছাড়া চ্যালেঞ্জ করারও কোনো সুযোগ নেই। অথচ উক্ত ইউনিটে শতশত শিক্ষার্থীর নাম্বার কম পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।
এ বিষয়ে ডি ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর ও শিক্ষা অনুষদের ডিন আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, উত্তরপত্র দেখা হয়েছে অটোমেশন পদ্ধতি। এখানে কোনো শিক্ষক বা কেউ হাত দেয়নি। আর ফলাফল প্রকাশের পর কার্যক্রম অনেকদূর এগিয়ে গেছে। এখন ৫৩ হাজার পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা সম্ভব না।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব এস এম আকবর হোসাইন বলেন, যারা উত্তর পত্রে ভুল করেছে তারা নাম্বার কম পেয়েছেন। আর কারো ওএমআর পেপারে যদি কোনপ্রকার ভুল হয়, তাহলে অটোমেশন পদ্ধতিতে তাদের ফলাফল বাদ পড়ে যায়। এমনকি ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email25