বদরখালী-মহেশখালী সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায়

নিজস্ব প্রতিনিধি:কক্সবাজারের চকরিয়ায় বদরখালী-মহেশখালী সেতু পারাপারে ইজারারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সেতু পারাপারে যানবাহন চালক ও ইজারাদারদের মধ্যে প্রতিনিয়ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। চালকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। প্রতিদিন সেতুর ইজারাদার যানবাহন মালিক ও চালকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টোল আদায় করে আসছে।

প্রতিবাদ করলে চালকদের মারধরসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। টোল আদায়ে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্ধারতি নিয়ম মানছে না ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ বদরখালী সেতুর টোল আদায়ে টেন্ডার দিলে গত অর্থবছরে স্থানীয় মেসার্স রাহাত কনস্ট্রাকশন ইজারা পান।

অভিযোগ উঠেছে ইজারা নেয়ার পর থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের প্রভাব খাটিয়ে ইজারাদার যানবাহন থেকে টোল আদায় করে আসছে। টোল আদায়ে নিয়োজিত লোকজনের খারাপ আচরণে অতিষ্ঠ এ সড়কের যানবান চালকরা। এতে সহযোগীতা করছে বুলবুল সিকদার নামের স্থানীয় এক যুবক নেতা ও চকরিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রমিক ইব্রাহিম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পিকআপ চালক জানান, গতকাল সকালে বালি ভর্তি করে একটি পিকআপ মহেশখালী যাওয়ার পথে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রেইলার যানবাহনের ২৫০টাকা মুল্যের ২টি রশিদ ধরিয়ে দিয়ে ৫শত টাকা আদায় করে। কিন্তু পিকআপের টোল ফি সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃক ১৭৫ টাকা নির্ধারিত আছে। তাছাড়া দেশের বৃহত্তর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে মালামাল নিয়ে আসা ট্রাক ও ট্রেইলার যানবাহন থেকে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে বলে অভিযোগ করেন চালকরা। বিদেশ ও সারা দেশে মহেশখালী থেকে মিষ্টিপান, লবণ ও চিংড়ি রপ্তানি করা হয়। যার একমাত্র যোগাযোগ সংযোগ সড়ক হল বদরখালী সেতুটি। প্রতিদিন প্রায় ৫শতাধিক যানবাহন চলাচল করে এই সেতু দিয়ে। তাদের দাবীকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, এ অবস্থার কারনে গাড়ি চালকরা প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

এর ধারাবাহিকতা থাকলে মহেশখালীতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাঁধাগ্রস্থ হবে। অতিরিক্তি টোল আদায়ের ব্যাপারে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাহাত কনস্ট্রানশনের পক্ষে মো. এমরানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেইটারের টোল ফি পিকআপ থেকে কেন নিবে। আমরা গাড়ির ধরণ দেখে টোল আদায় করা হয়। আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায় করি।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বডুয়া বলেন, কোন গাড়ির টোল ফি কত তার নির্ধারিত বিল বোর্ড সেতুর প্রবেশ পথেই দেওয়া আছে। সেই নিয়মে যানবাহন চালকরা টোল দিবে। যদি ইজারাদার অতিরিক্ত টোল দাবি করে তাহলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email