সরকারি সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ উন্নয়ন বাজেটের প্রতিটি পয়সা যেন যথাযথ ব্যবহার হয়, সে বিষয়ে সরকারি কর্মচারিদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের সম্পদ কোনোভাবেই যেন লুটপাট করা না হয় সে ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ‘জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭’ প্রণয়ন করেছি। সাধারণ মানুষের সেবা পেতে যে কোন সমস্যা নিরসনে গণশুনানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন যাতে গতিশীলতা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ অনেক কষ্ট করে আমরা টাকা-পয়সা জোগাড় করি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের (বিএএসএ) বার্ষিক সম্মেলন ২০১৮ তে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা যখন গ্রহণ করি তখনও আমি চাই এর সাথে যারা সম্পৃক্ত থাকেন তারা যেন কোনটা যথাযথভাবে মানুষের প্রয়োজন এবং কাজে লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখেন। জনসেবা যেন আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য চালু করা হয়েছে ওয়েবভিত্তিক অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, যেখানে সকল নাগরিক তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে দপ্তরসমূহের দুর্নীতি প্রবণ এলাকাসমূহ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, জাতির বিজয়ের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল। আর বিকৃত ইতিহাস মানুষের বিকৃত চরিত্রই সৃষ্টি করে। এর হাত থেকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে বিজয়ী জাতি, সেই বিজয়ের ইতিহাস তুলে ধরে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বিজয় নিয়ে গর্ব অনুভব করার মতো শক্তি সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে দেশপ্রেমে তাঁরা উদ্বুদ্ধ হবে। তবেই দেশ এগিয়ে যেতে পারবে।

শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারি কর্মচারীদের স্মরণ করিয়ে দেন, তার সরকার ৫ বছরের জন্যই নির্বাচিত এবং ৫ বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। সেই জবাবদিহি করার সময় এসে গেছে। জনগণ সন্তুষ্ট থাকলেই তারা আবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

আমিরুল মুকিম// শুক্রবার, ২৭ জুলাই ২০১৮// ১২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email