হিলি সীমান্তে গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট পাচার বেড়েছে

হিলি সীমান্তে বেড়েছে ভারত থেকে গরু মোটাতাজাকরণের নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের চোরাচালান

নিউজ ডেস্কঃ হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু মোটাতাজাকরণের নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের চোরাচালান বেড়েছে। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে সংঘবদ্ধ চোরাচালানকারী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে পাচার করে আনছে গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট। গত দুই মাসে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত থেকে ২০ লাখ ৩০ হাজার পাঁচশ ৫০পিস নিষিদ্ধ গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ট্যাবলেটের কিছু চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশ চালানই চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত গরুর খামারগুলোতে। অধিক মুনাফালোভী কিছু খামার মালিক এসব ট্যাবলেট খাইয়ে অল্প দিনের মধ্যেই গরুকে মোটা দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হিলি সীমান্তের কয়েকটি বিজিবি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, গেল জুন মাসে ২ লাখ ২৮ হাজার পিস ডেক্সিন ট্যাবলেট ও ২৮ হাজার প্রাকটিন ট্যাবলেটের দুটি চালান উদ্ধার করা হয়। চলতি জুলাই মাসের ৩, ৭, ১২ ও ১৩ তারিখে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার নয়শ ৫০ পিস প্রাকটিন ট্যাবলেট, নয় লাখ ৪০ হাজার ডেক্সিন ট্যাবলেট ও ৭২ হাজার ছয়শ পিস সিজেট ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে ধরা পড়ার পরও সীমান্ত দিয়ে থামছে না চোরাকারবারিদের তৎপরতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, হিলি সীমান্ত পার করার পর এসব ট্যাবলেট চলে যায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকায়। সেখান থেকে বগুড়ায়। তারপর ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় চলে যায় এসব নিষিদ্ধ ট্যাবলেট। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানের খামারিদের কাছে সরবরাহ করা হয়। সীমান্ত এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে এসব ট্যাবলেট বহনে তেমন কোনও ঝামেলা পোহাতে হয় না। প্রতি বছর কুরবানির ঈদের আগে এসব ট্যাবলেটের চাহিদা বেড়ে যায় বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসিরুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও কুরবানির ঈদকে ঘিরে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো হিলি সীমান্ত এলাকাতেও গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। তবে হিলি সীমান্ত এলাকা হওয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে এবং আমরা নিজেরাও এসব এলাকায় যারা গরু মোটতাজাকরণ করছেন তাদের প্রতি কঠোর নজরদারি রাখছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অথবা সভা-সেমিনার ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তারা যেন প্রাকৃতিক উপায়ে দানাদার খাদ্য খড় ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করে। এরপরও কেউ যদি গরু মোটাতাজাকরণ কাজে ট্যাবলেট ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এসব ট্যাবলেট খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করলে গরুর শরীরে পানি জমবে, গরুকে অত্যধিক মোটা দেখা যাবে। গরু অবশ হয়ে যাবে। এমনকি গরু স্ট্রোকও করতে পারে। সেক্ষেত্রে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই আমরা বারবার খামারিদের সতর্ক করছি তারা যেন কোনোভাবেই এসব গরু মোটাতাজাকরণ ভারতীয় ট্যাবলেট ব্যবহার না করেন।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান আলী সরকার বকুল জানান, কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণে যেসব ট্যাবলেট গরুকে খাওয়ানো হয় সেগুলো মাংসের মাধ্যমে মানুষের দেহে পৌঁছালে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানুষের রক্তনালি, কিডনি, লিভারে চর্বি জমে যায় এবং শরীর ফুলে যায়। হার্ট, লিভার, কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, কুরবানির ঈদকে ঘিরে হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের চোরাচালানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যন্তরে যেন কোনোভাবেই এসব নিষিদ্ধ গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিছুল হক বলেন, সীমান্ত দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেটসহ সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও কাজ করছে।

আমিরুল মুকিম// ২৪ জুলাই ২০১৮, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email