সবজির বাজারে আগুন: ৪০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে বন্দরনগরী সবজির বাজার কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও ঈদের পরই হঠাৎ চড়া হয়ে দাড়িয়েছে সকল প্রকার সবজির দাম। ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বাজারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) নগরের রিয়াজ উদ্দিন বাজার থেকে শুরু করে চকবাজার কাঁচাবাজার ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্রই দেখা গেছে।

ক্রেতারা বলেন, প্রত্যেক সবজিতে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে দাড়িয়েছে দাম। তবে অনেকটা দাম কম অাছে গাজর, বেগুন ও শাকের দাম।
তবে, অপরবির্তিত রয়েছে মসলা জতীয় পণ্য আদা, পেঁয়াজ, চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম। তাছাড়াও কয়েকদিন ধরে দাম ওঠা-নামা করছে কাঁচা মরিচের।

অপরদিকে সবজির বাড়তি দাম নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে। বিক্রেতা দাবি , বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পাইকার বাজারে মালের সংকট রয়েছে, এ কারণে দাম বাড়তি।অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বন্যা কোনো ইস্যু না, প্রতি ঈদের পরেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

এসব বাজারে প্রতি কেজি ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, কচুর লতি ৪৫ থেকে ৬০ টাকায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, কাকরোল আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, বরবটি ৬৫ থেকে ৮০ টাকায়,ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, পটল ৪০থেকে ৪৫ টাকায়, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, দেশি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, আলু ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে দাম কমেছে করলা, বেগুন ও গাজরের। দু’দিন আগে করলা ১০০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।গত দু’দিনের ব্যবধানে বেগুনের কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে গোল সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় আর লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

দাম বেড়ে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জালি কুমড়া।

অপরিবর্তিত আছে আলু, মিষ্টি কুমড়া, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি কাঁচা মরিচের দাম ১৭০০ টাকা আর আমদানি (ভারতীয়) করা কাঁচা মরিচের দাম ১২০ টাকা।

তবে দাম কমেছে শাকের। দাম কমে এসব বাজারে প্রতি আঁটি লাল শাকের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা, মূলা ও কলমি শাক ১০ থেকে ১২ টাকা, লাউ ও কুমড়া শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

আগের দাম রয়েছে আদা ও পেঁয়াজের বাজারে। তবে কিছুটা কমেছে রসুনের দাম। এসব বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে (মান ভেদে) ২৮ থেকে ৪০ টাকা, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে (মান ভেদে) ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। তবে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

অপরিবর্তিত রয়েছে চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম। এসব বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট (নতুন) চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট (পুরনো) ৫৫ টাকায়, বাসমতী ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়, পায়জাম চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, স্বর্ণ ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে, আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে, আতোপ চাল ৪৮থেকে ৫০ টাকায়, এক সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকায়, প্রতি কেজি পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়।

প্রতি কেজি দেশি মসুর(চিকন) ডাল ১৪০ টাকায় ও মসুর (মোটা) ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তাই এ বিষয়ে ইসলাম নামে চকবাজারের এক বিক্রেতা বলেন, দেশে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় পাইকার বাজারে পণ্য আসছে কম।যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।

তবে তার সঙ্গে একমত নন এ বাজারের ক্রেতা কামাল। তিনি নাগরিক নিউজকে বলেন, বন্যা কোনো ইস্যু না, প্রতি ঈদের পরেই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন। এখন বাজারে ক্রেতা নেই তবে পণ্য আছে অনেক অথচ বাড়তি দাম রাখছেন ব্যবসায়ীরা।

নাগরিক নিউজ /নাহিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email