সংস্কারের অভাবে হারবাং বারবাকিয়া সড়কটির বেহাল দশা,হারিয়ে যাচ্ছে চকরিয়ার একটি অপার সম্ভাবনা

 

ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুনঃনির্মাণ করার দাবী হারবাং এর  সাধারণ জনগনের   

হারবাং হল এমন একটি নাম যা থেকে আমার অস্থিমজ্জা, রক্ত-মাংশ সহ সব কিছুর সৃষ্টি। আমার জন্ম, বেড়ে উঠা, প্রাথমিক শিক্ষা সবই এখানে। আমার মনে পড়ে যখন খুব ছোট ছিলাম আমার বাড়ির পাশের বিল পেরিয়ে একটা রাস্তা (হারবাং-বারবাকিয়া সড়ক) দেখা যেত।

সেই রাস্তায় তখন চাঁদের গাড়িগুলো যাওয়া-আসা করত। আমরা শৈশবের খেলার সাথীরা প্রায় একটা খেলা খেলতাম। খেলাটা হল রাস্তার পশ্চিম প্রান্ত থেকে কয়টা গাড়ি আসছে আর পূর্ব প্রান্ত থেকে কয়টা গাড়ি আসছে। যেদিক থেকে বেশি গাড়ি আসবে সেই দিকের পক্ষ সেদিনের জন্য জিতে যাবে। বেশির ভাগ সময়ই আমরা কোন পক্ষই জিততে পারতাম না কারণ প্রায় সময় দুই দিক থেকেই একই সংখ্যক গাড়ি আসত আর এদিকে মাগরিবের আজান হয়ে যেত আর আমাদের খেলাও শেষ।

যাই হোক, তখন কিন্তু চকরিয়া-পেকুয়া আলাদা কোন উপজেলা ছিলনা এবং চকরিয়া ও পেকুয়ার একমাত্র সংযোগ সড়ক ছিল এটাই। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই সড়ক আজ অবহেলিত।
আমি এলাকার মুরব্বিদের বলতে শুনেছি তখন হারবাং ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ছিল এই এলাকার একমাত্র প্রাচীন হাই স্কুল। চকরিয়া-পেকুয়ায় তখন হাতেগোনা কয়েকটি হাইস্কুল। পেকুয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, বরইতলী, শিলখালী সহ কাছাকাছি এলাকাগুলো থেকে এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলে আসার কত গল্প যে শুনেছি মুরব্বিদের কাছে সেসব নাহয় অন্যদিন বলব।

অথচ আজকে আঞ্চলিক কু-রাজনীতি বা অবহেলা বা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে এই সড়কটির বেহাল দশা। যতদূর জানি এর বিকল্প হিসেবে প্রথমত তৈরি হয় বানিয়ারছড়া-পেকুয়া সড়ক। তারপর হয় বরইতলী একতা বাজার(গরুবাজার)-পেকুয়া সড়ক। উন্নয়নের নিয়মে উন্নয়ন হবে কিন্তু তাই বলে কি আগের জনপদকে পায়ে ঠেলে দিতে হবে!
এখন কর্ণফুলীতে নতুন সেতু হয়েছে তাই বলে কি ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট ব্রিজ বন্ধ করে দিতে হবে বা সংস্কার না করে ফেলে রাখতে হবে? যদি তাই হত তাহলে সেই সেতু ঘিরে বা সেই রাস্তা ঘিরে যে বিশাল জনপদ গড়ে উঠেছে সেইসব মানুষগুলোর যাতায়াত, জীবন-জীবিকার কি হাল হত একবারও কি ভেবে দেখেছেন?


এই যে হারবাং-বারবাকিয়া রাস্তা ঘিরে গড়ে উঠা শত বছরের জনপদ-বসতি, তাদের বেঁচে থাকা ও জীবন-জীবিকার বর্তমান যে কষ্ট তা কি প্রিয় চকরিয়া-পেকুয়া বাসীর কোন জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কাউকে এতটুকুও ছুঁয়ে যায়না?

জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের এত এত জোয়ারের মধ্যেও কি এই ছোট কিন্তু খুবই ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সামান্য কোন বাজেট নেই? বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের হারবাং অংশে একটি রেলষ্টেশন নির্মান প্রক্রিয়া চলমান। এই রেলষ্টেশনটি নির্মিত হলে বৃহত্তর হারবাং- বরইতলীবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্তেও একটি সংযোগ সড়কের নির্মান করা খুবই দরকার। অনথ্যায় দীর্ঘপথ ঘুরে এই অঞ্চলের মানুষকে সেই ষ্টেশনে যাতায়াত করতে হতে পারে। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি যদি পূনঃনির্মিত হয় এবং প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়কের সাথে যুক্ত হয় তাহলে কক্সবাজারের পুরাতন ও অন্যতম বৃহত্তম ইউনিয়ন হারবাং-এর ব্যাপক উন্নতি হবে বলে মনে করি। তাছাড়া উক্ত সড়কের আশেপাশে গড়ে উঠা অবহেলিত জনপদের বাসিন্দারা তাদের ভুলুন্ঠিত অধিকার ফিরে পাবে। এবং রাস্তা সংলগ্ন চকরিয়ার বৃহত্তর ফইত্যাবিল ও বড়বিল এর কৃষকের মুখে আবার হাসি ফুটবে ও চকরিয়া-পেকুয়ার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এছাড়াও চকরিয়ার সাথে বারবাকিয়া হয়ে পেকুয়া-মগনামার আরেকটি বিকল্প যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও সড়কটি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। পরবর্তীতে কুতুবদিয়া-সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে এই বৃহত্তর বিলজুড়ে বিভিন্ন শিল্প এলাকা গড়ে উঠার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক বলতে চাই, এই ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুনঃনির্মাণ করার দুরদর্শী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়ে প্রাচীন জনপদ হারবাং ও বারবাকিয়া তথা চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়নের ইতিহাসে আপনাদের নামটি স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করার এখনই সময়।

আল রাহাত
প্রভাষক,

কক্সবাজার সিটি কলেজ, কক্সবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email