লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্বিচারে নিষিদ্ধ রেনু পোনা ধরার মহোৎসব

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গলদা চিংড়ির রেনু নিধনে চলছে মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় নির্বিচারে নিষিদ্ধ রেনু পোনা ধরার মহোৎসব চললেও অজানা কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মেঘনা উপকূলীয় এ উপজেলায় মৌসুমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার গলদা চিংড়ির রেনু পোনা যায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও বছরের চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার জেলে মেঘনা নদী ও তার সংযোগ খাল থেকে এ পোনা সংগ্রহ করে। তবে এ সময় মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে জেলেদের সকল ধরণের মাছ ধরা ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর হাইমচর, রায়পুর, রামগতি ও আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার গলদা চিংড়ির অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এতে এ মৌসুমে মেঘনা পাড়ের প্রায় ১৮ হাজার জেলে, শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ ও মাঝারি বয়সের ছেলেমেয়েরা মশারী, নেটজাল, বিহিন্দি, কারেন্ট ও নেটওয়ার্ক জাল, ছাঁকনী ও চাদর দিয়ে নির্বিচারে নিধন করছে চিংড়ি (গলদা) রেনু পোনা। জেলেদের সংগ্রহ করা পোনা কেনার জন্য যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর থেকে অনেকে মৌসুমের শুরু থেকে মেঘনা উপকূলে ভিড় জমান।

অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি প্রভাবশালী চক্র রায়পুর উপজেলা হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে এ গলদা চিংড়ি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পোনা সংগ্রহ করতে আসা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় নদী এলাকায় মৌসুমে গলদা চিংড়ি পোনার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ব্যবসাকে ঘিরে মেঘনা নদীর পাড়ে বিভিন্ন স্থানে হাট বসে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন সবুজ বলেন, ‘রেনু না ধরার জন্য কয়েকটি ইউনিয়নে সচেতনতা সভা করেছি। কোস্টগার্ডও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে। নদী থেকে গলদা চিংড়ির পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিষিদ্ধ কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email