রমজানে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের প্রতি সুজনের অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতবিদেকঃ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করণ এবং তা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য জনদূর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন ২রা জুন শনিবার বেলা ২.৩০ টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন এর সাথে তাঁর বাসভবনে স্বাক্ষাত করেন।

সুজন পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল, নকল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য বিক্রি বন্ধ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা অর্পন করেন। এ সময় জনাব সুজন বলেন জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত রমজান মাসের শুরুতেই অভিযান পরিচালনার ফলে রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে প্রবনতা দেখা যায় তা বন্ধ হয়েছে। জনসাধারন নিশ্চিন্ত মনে পবিত্র রমজান পালন করছে। মানুষের মনে আজ মূল্যবৃদ্ধির কোন হাহাকার নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের যে মূল্যবৃদ্ধি প্রতি বছর জনসাধারনকে ভোগান্তিতে ফেলে তা থেকে এবছর জনসাধারনকে রেহাই দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করায় জনাব সুজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসক মারফত কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি আরো বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের কঠোর অভিযানের ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হারে ভেজাল খাদ্র দ্রব্যাদি জব্দ করা হচ্ছে। ফুটপাতের পাশের দোকান থেকে শুরু করে অনেক নামী দামী প্রতিষ্টানও ভেজাল খাদ্য দ্রব্য সরবরাহ করছে। যার ফলে জনগন ভেজাল খাদ্য দ্রব্য গ্রহন করে কিডনী, লিভারসহ ফুসফুসের ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট প্রতিনিয়তই বাসী পচা খাওয়ার অযোগ্য খাবার খাওয়াচ্ছে ভোক্তাদের। ফলের আড়তেও পরিচালিত অভিযান কার্যক্রমে কৃত্রিম ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। যার ফলে জনগন আপেল, কমলা, আম, নাসপাতিসহ অন্যান্য ফলমুল ক্রয় করতে ভয় পাচ্ছে।

এতে করে আগামী প্রজন্ম ফলের পুষ্টিগুণ থেকে বি ত হচ্ছে। খাদ্যদ্রব্যে ভেজালকারীদেরও মাদক ব্যবসায়ীদের অনুরূপ সাজা দেওয়ার জন্য জনাব সুজন আহবান জানান। তাছাড়া বর্ষার পূর্বে পাহাড় ধ্বস থেকে সমস্ত অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করায় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।

জেলা প্রশাসক দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন জনগনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য। আমি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে সদা সচেষ্ট থাকব। শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জেলা প্রশাসক হওয়ার কোন ইচ্ছা আমার নেই। আমি ইতিমধ্যে আমার সহকর্মীবৃন্দ সমন্বয়ে ভেজালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছি। আমি যতদিন চট্টগ্রামে থাকব ততদিন আমার এ যুদ্ধ চলবে। জনগনকে সাথে নিয়ে জনহিতকর সকল কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহন থাকবে বলে জেলা প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি ব্যবসায়ীদের সরকারের নিয়ম কানুন মেনে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ব্যবসা বান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরা যাতে সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে সেজন্য আমার সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে সরাসরি এসে তাঁর সাথে স্বাক্ষাত করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভেজাল বিরোধী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে জনসাধারনকে সচেতন করার আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ ইলিয়াছ, শওকত হোসাইন, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, নিজাম উদ্দিন, সমাজকর্মী মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, এ.এস.এম জাহিদ হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ সদস্য সাইফুল্লাহ আনসারী, অনির্বান দাশ বাবু, স্বরূপ দত্ত রাজু, সরওয়াদী এলিন, হাসান মুরাদ, মোঃ আলমগীর প্রমূখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email