মাস্ক পরে করোনা রোধ, ধর্ষনের রোধ কোথায়

নাগরিক নিউজ ডেস্ক ঃ  
লকডাউন, ঘরবন্দি পুরো দেশ, করোনার আতঙ্কের মধ্যেও চলছে ধর্ষণ ও গণধর্ষণ।
করোনা থামিয়ে দিচ্ছে মানুষের জীবন, থামিয়ে দিচ্ছে কল-কারখানার চাকা, দেশের অর্থনীতি সাথে ১৩০ কোটি লোকের স্বাভাবিক জীবনযাপন। কিন্তু থামাতে পারছে না ধর্ষকদের। লকডাউনের বাজারে গোটা দেশ যখন ঘরবন্দি, তখনও ধর্ষনের নোংরা তান্ডব।

বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর তথ্যমতে, লকডাউনের সময় গত মে মাসে ৩১ দিনে দেশের ৫৩টি জেলায় ১৩ হাজার ৪৯৪ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। ৫৩ হাজার ৩৪০ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে ফোনে আলাপ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই টেলিফোনিক জরিপে বলা হয়, নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের হার বেড়েছে ৩১ শতাংশ। শুধু তাই নয় গত মে মাসেই ১৯ শিশু–কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাছাড়া ১৮ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ২১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে ১৯ জন মেয়ে। ১৩টি মেয়েশিশু ও ৬টি ছেলেশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ত্রাণ নিতে গিয়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে তিনজন।

বিশ্বজুড়ে চলমান এই দুর্যোগে অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক আর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে মানুষ যখন স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হা–পিত্যেশ করছে, তখন অপরাধের মাত্রা ও ক্ষেত্রের হেরফের হলেও অপরাধ থামেনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর মধ্যে ১১ হাজার ২৫ জন অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ঘটেছে স্বামীর হাতে।

পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪৫ শতাংশ নারী, ৪ হাজার ৯৪৭ জন। এ ছাড়া অর্থনৈতিক কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ হাজার ৫৮৯ জন (৩৩ শতাংশ), শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৮৫ জন (১৯ শতাংশ) এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন (৪ শতাংশ)।

ব্র্যাক জানিয়েছে, লকডাউনের সময়ে ১১টি জেলায় পরিচালিত সংস্থার জরিপে ৩২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের পরিবার ও পাড়ায় কাজ হারিয়ে অথবা আয় কমে যাওয়ায় পারিবারিক নির্যাতন বেড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সক্রিয় থাকার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার ব্যাপারে পুলিশের মনোযোগ কম। মাঠে কাজ করতে গিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক হারে সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে, মারাও গেছেন অনেকে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের বিধান থাকলেও এ ব্যাপারে পুলিশের এখন ঢিলেঢালা ভাব।

এতগুলি ঘটনা একটা কথাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, করোনার ভয় থাক বা না থাক, লকডাউন চলুক বা বন্ধ হোক, ধর্ষকদের যতই ফাঁসি হোক, ধর্ষণকারীদের কোনও ভয় নেই, চিন্তা নেই, চেতনা নেই। মাস্ক পরে করোনা থেকে নিপত্তি মিললেও, নারীদের কোনও সুরক্ষা নেই।

নাগরিক নিউজ /নাসরিন আক্তার এ্যানি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email