মামলা জটিলতায় আটকে আছে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের নির্মান কাজ-বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ পর্যটক-এলাকাবাসী

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥   সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এর বিরুদ্ধে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের চলমান মামলা জটিলতায় প্রায় আট বছর ধরে আটকে আছে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা থেকে মৎস্য বন্দর মহিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশে নির্মান কাজ। নিন্ম মানের কাজ করেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমন মামলঅর কারনে কোন সংস্কার কিংবা মেরামত না হওয়ায় খানাখন্দসহ বহু গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি যানবাহনসহ চলাচলে হয়ে পড়েছে চরম ঝুঁকিপূর্র্ন। গুরুত্বপূর্ন সড়কটির এমন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে ভোগান্তিতে পড়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার হাজার হাজার পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষ।

সড়ক ও জনপথ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে কন্ট্রাক্ট কুয়া-০১ ও ০২ আওতায় খেপুপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুটি প্রকল্প ২৪% নিন্ম দরে কাজের বরাব্দ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লি:। কুড়ি কোটি টাকার এ প্রকল্পের সম্পাদিত কাজের ১৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বিল গ্রহন করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পাদিত না করে অত্যন্ত নি¤œমানের কাজ করায়, নির্মানের অল্প দিনের মধ্যেই পিচ-খোয়া উঠে যায়। আবার কোথাও সড়ক ধসে পড়ে। অনেক জায়গার বিটুমিন উঠে গিয়ে ইট-বালু-খোয়া বের হয়ে যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদিত কাজের বিল বাবদ সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি বিল আটকে দেয় সড়ক ও জনপথ।

নকশা অনুযায়ী রাস্তা আরো টেকসই করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানকে সম্পাদিত কাজের উপড়ের লেয়ার তুলে অবশিষ্ট লেয়ারের উপড় অতিরিক্ত ১২৫মি.মি. সাববেজ করার সুপারিশ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনিকাল কমিটি। ঐ সময়ে প্রধান প্রকৌশলীর গঠিত একটি টেকনিক্যাল টিম ২৬ফুট প্রস্থ রাস্তার মধ্যবর্তী ১২ফুট অংশে বেজ টাইপ-১ এর গড় পুরুত্ব ২০০মি.মি. এর পরিপর্তে ১৬৩ মি.মি. পাওয়ায় কাজের মান সন্তোষজনক নয় বলে প্রতিবেদন দাখিল করে। মধ্যবর্তী ১২ ফুট অংশের কার্পেটিংয়ের কাজ খুড়ে ফেলে বেজ কোর্সের কাজ অপসারন করার পর উক্ত অপসারিত মালামাল দিয়ে পুনরায় বেজকোর্সের কাজ সম্পন্ন করার সুপারিশ করে টেকনিক্যাল কমিটি। কিন্তু টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিবেদনকে অবাস্তব অখ্যায়িত করে, প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় কমকর্তাদের বিরুব্ধে উৎকোচ দাবীর অভিযোগ তুলে মামলা করে দি রূপসা ইজ্ঞিনিয়ার্স লি:।

আদলতের নিষেধাজ্ঞায় আটকে যায় সড়কটির নিমান কাজ। ফলে সড়কটি চলাচল উপযোগী রাখতে নিজস্বভাবে উদ্যোগ নেয় সওজ। কিন্তু নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মান কাজ করার অভিযোগ স্থানীয়দের। মোস্তফাপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, কি কাজ করে বুঝিনা!! একদিকে কাজ করে আরেক দিকে উঠে যায়।

পাখিমারার ব্যবসায়ী সোলায়মান বলেন, খাদায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। যাত্রীবাহি বাস, পণ্যবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন চলার সময় কাদাপানি ছিটকে সড়কের পাশের দোকানের মালামাল ও পথচারীদের জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহন প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে। প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষসহ পর্যটকরা। কুয়কাটা-যশোর রুটে চলাচলকারী রূপসা পরিরহনের বাসচালক আলাউদ্দিন জানান, ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে দ্বিগুন সময় লাগে। ঝাকুনিতে যাত্রীরা হয়ে পড়ে অসুস্থ।

পটুয়াখালী সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন জানান, জনগুরুত্ব বিবেচনায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা থেকে মৎস্য বন্দর মহিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশে নির্মান কাজে জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। নিয়মানুয়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডে’র সাথে চুক্তি বাতিল করে চিঠি ইস্যু করা হয়। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডে পুনরায় আদালতের সরনাপন্ন হলে আটকে যায় সেই প্রক্রিয়া। বিয়য়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাা করছি এক মাসের মধ্যে চলমান সমস্যার নিস্পত্তি হবে। এবং খুব দ্রুত দরপত্র আহবানের মাধ্যমে সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মুকিম // বৃহস্পতিবার, ০৫ জুলাই ২০১৮, ২১ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ শাওয়াল ১৪৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email