সাত-কিলোমিটার-সড়কের-পাঁচ-কিলোমিটারই-ভাঙা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সড়ক দীর্ঘদিনেও সংস্কার নেই-৫ কিলোমিটারই খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি

নিউজ ডেস্কঃ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা-বরুন্ডি সড়ক দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। জনগুরুত্বপূর্ণ সাত কিলোমিটার সড়কটির পাঁচ কিলোমিটারই খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের মিতরা থেকে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডী ঘাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এই সড়কটি এলজিইডি’র অধীনে। এর মধ্যে মিতরা থেকে বড় কালিয়াকৈর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। দীর্ঘদিনে সংস্কার না করায় সড়কের এই পাঁচ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং ওঠে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এবারের বৃষ্টিতে সড়কটির অবস্থা আরও বেহাল হওয়ায় এই সড়কের আশপাশের বেতিলা-মিতরা, পুটাইল, হাটিপাড়া ও বলধারা- এই চারটি ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এছাড়া সড়কটির পাশে কৈতরা ও বড় কালিয়াকৈর এলাকায় বড় বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব বাজারে মালামাল আনা নেয়া করতে ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

সম্প্রতি সড়কটির মিতরা থেকে বড় কালিয়াকৈর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং ওঠে চরম খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে কৈতরা, সলুন্ডি ও বড় কালিয়াকৈর এলাকায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে আছে।

ইজিবাইক ও টেম্পো থেকে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে কৈতরা এলাকায় চালকদের খালি যান নিয়ে গর্ত অতিক্রম করতে দেখা যায়।

এসময় ইজিবাইক চালক সেলিম হোসেন, সুজন মিয়া জানান, রাস্তা ভালো না থাকায় দুই-একদিন পর পরই গাড়ি নষ্ট হয়।

কৈতরা বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, এই সড়কে মালামাল আনতে বাড়তি গাড়িভাড়া দিতে হচ্ছে। একই গ্রামের বিমল রায় জানান, হাটবাজারে কৃষিপণ্য নিতে কৃষকদেরও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

বরুন্ডি গ্রামের গৌড়দাশ সরকার ও বড় কালিয়াকৈর গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্ট হয়েছে। এছাড়া আশপাশের ইটভাটাগুলোতে মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণেও সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়। জেলা শহরে যাতায়াতে ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।

স্থানীয় হাটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নয় নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আক্কাস আলী জানান, প্রায় তিন মাসে আগে সড়কের কয়েকটি স্থানে গর্তে ইটের খোয়া ফেলা হয়। তবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে কয়েক দিনের মধ্যে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি জমে থাকা এসব গর্তের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে সড়কটি আরও বেহাল হয়ে পড়ছে।

সড়কের এই বেহাল পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেন এলজিইডির সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে সড়কটি সংস্কারের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ নিরূপণ করা হয়। সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। তবে বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা যাচ্ছে না।

মুকিম // বুধবার , ১১ জুলাই ২০১৮, ২৭ আষাঢ় ১৪২৫, ২৫ শাওয়াল ১৪৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email