মানিকগঞ্জ কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েপ্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেঅনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

নিউজ ডেস্কঃ মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দাতা সদস্য করার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন খোদ ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য সোয়েব আহম্মদ রাজা। তিনি এর প্রতিকার চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে।

জানা যায়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অগোচরে এসব অনিয়ম করে আসছেন। বিদ্যালয়ে স্থাপিত শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাবে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা করে আদায় করছেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য প্রধান শিক্ষক তাদেরকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে নিষেধ করেছেন। এই নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

এসএসসির ফরম পূরণের সময় তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তা বিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের নির্ধারিত ফি ছিল সর্বসাকুল্যে এক হাজার ৭৯০ টাকা।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভায় সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল এই নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টাকা যাতে না নেয়া হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সেই নির্দেশ অমান্য করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে ৪-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী ১০২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩-৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত এই প্রধান শিক্ষক।

সাংবাদিক আবুল বাসার আব্বাসী বলেন, তার মেয়ে শারমিন আব্বাসী এ বছর এই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফরম পূরণের সময় চার হাজার টাকা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

এছাড়া নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে অতিরিক্ত আরও এক হাজার টাকা আদায় করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, টাকা আদায়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবেও নির্বাচনী পরীক্ষায় তাদের ফেল করানো হয়েছে।

পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য সোয়েব আহাম্মেদ রাজা অভিযোগ করেন, বিধি মোতাবেক দাতা সদস্য না করে পছন্দের লোকদের দাতা সদস্য করা হয়েছে। প্রচারের মাধ্যমে নতুন দাতাদের উদ্বুদ্ধ না করে অতি গোপনে পছন্দের কয়েকজনকে দাতা সদস্য করা হয়েছে। এ কারণে অনেকেই দাতা সদস্য হতে পারেননি। এতে বিদ্যালয় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন দুইটি বড় পুকুর বিধি মোতাবেক তিন বছর পর পর লিজ দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তিনি অতি গোপনে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে পুকুর লিজ দিয়েছেন। এতে প্রধান শিক্ষক লাভবান হলেও বিদ্যালয় বঞ্চিত হয়েছে লক্ষাধিক টাকার আয় থেকে।

এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন বলেন, পরীক্ষার ফি বাবত যে অতিরিক্ত ৪-৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে তা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেয়া হয়েছে।

শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাবে শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ল্যাবের নিরাপত্তা রক্ষায় কলাপসিবল গেইট লাগানোর জন্য কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তবে সবার কাছ থেকে নেননি। এছাড়া পুকুর লিজের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর দোষ চাপান তিনি। সভাপতির সিদ্ধান্তেই তিনি পূর্বে নেয়া ব্যক্তিকেই লিজ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কাফাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় সরকারি বিধি মোতাবেক সকল কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, এসএসসির ফরম পূরণের সময় এক হাজার ৭৯০ টাকার বেশি আদায় করা হয়ে থাকলে ফেরত দেয়া হবে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, তিনি অভিযোগপত্রটি পেয়েছেন। অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে ডাকবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

আমিরুল মুকিম// বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১৮// ১১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email