ময়মনসিংহ দিবসের র‌্যালী ও আলোচনা সভায়-বিভাগীয় কমিশনার

মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির আত্ব প্রকাশ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
মহান মে দিবসের শুরুতে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন ময়মনসিংহ জেলার ২৩১ বছর পূর্তি ও বর্ণিল আয়োজনে ময়মনসিংহ দিবস-২০১৮, উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামে অবস্থানরতদের সংগঠন বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি,চট্টগ্রামের উদ্যোগে ১ লা মে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় নগরীর নন্দকানন্থ সমিতি প্রাঙ্গনে এক র‌্যালী এবং আলোচনা সভা সমিতির সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতি: কমিশনার মাসুদ উল হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন শাহা, সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার সরকার, মহ-সচীব উবায়দু হক আলমগীর, সমিতির সদস্য ডা. সরওয়ার আহমেদ। এতে সমিতির বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির যুগ্ন-মহাসচীব ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি আবদুল মান্নান বলেন আজ থেকে ২৩০ বৎসর পূর্বে ১৭৮৭ সনের ১লা মে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পত্তন হয়। তাই প্রতিবছর ১ লা মে আমরা ময়মনসিংহ দিবস উদযাপন করি। মহান মে দিবসের সাথে এ দিবস সাংঘর্ষিক নয়। এ জেলার উত্তরে গারোপাহাড় ও আসামের গোয়ালপাড়া জেলা, এবং পশ্চিমে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা,দক্ষিণে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদি জেলা এবং পূর্বে ব্রাহ্মবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

ময়মনসিংহ জেলার আদি নাম ছিল মোমনশাহী। ময়মনসিংহ নামটি ময়নসাহীর পরিবর্তিত রূপ। তিনি বলেন কথিত আছে দিল্লীর স¤্রাট আকবরের সময় মমিনসাহ নাম মমিনসাহী হয়েছিল। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে মমিনসাহী মহালের নাম দেখা যায়। এই মমিনসাহীই উচ্চারণ বর্ণ ও লিপি বিড়ম্বনায় বর্তমান ময়মনসিংহ রূপ প্ররিগ্রহ করেছে এবং ইংরেজদের উচ্চারণ বিভ্রাটের ফলে হয়েছে। তৎকালীন ভারতবর্ষে ২টি বৃহত্তম জেলা ছিল ১টি ময়মনসিংহ অপরটি ভিশাগাপট্টম।

তিনি আরো বলেন ১৭৯১ সনে ময়মনসিংহ জেলা সদরের নাম ছিল নাসিরাবাদ। নাসির উদ্দিন নুসরাত শাহের নামানুসারে এ নামকরণ করা হয়। রেলওয়ে বিভাগের একটি ভুলের কারণে নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ করা হয়। বর্জনলাল এন্ড কোম্পানী ২০ টিন কেরাসিন বুক করে মোমেনশাহী জেলার নাসিরাবাদ ষ্টেশনে আনার জন্য। ভুলক্রমে এই কেরোসিন চলে যায় রাজপুতরার নাসিরাবাদ রেলওয়ে ষ্টেশনে। এই ধরণের কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় নাসিরাবাদ পৌরসভা। ১৯০৫ সনে এই নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ মিউনিসিপ্যালিটি হয়।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান, আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহর সাথে অনন্য ভুমিকা পালন করেন এই জেলার কৃতি সন্তান ধনবাড়ীর জমিদার নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। এমন কি অর্থ সংকটের কারণে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তখন এই নওবাব আলী তার জমিদারীর অংশ বিশেষ বিক্রয় ও বন্ধক রেখে অর্থের সংস্থান করেছিলেন। যিনি অবিভক্ত বাংলার ৩ বার শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন।

পারস্পরিক ভালবাসা, বিশ্বাস, সমঝোতা, সৌহার্দ্য ও সম্পৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে নিজেদের ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির আত্ব প্রকাশ।

ময়মনসিংহ দিবসের র‌্যালী ও আলোচনা সভায়-বিভাগীয় কমিশনার

এর আগে এদিন সকাল দশটায় চট্টগ্রামে অবস্থানরত বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির সকল সদস্য সমিতি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। সমিতির লুঘো সম্বলিত গেঞ্জি পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালীতে অংশ গ্রহন করেন। ব্যনার, রংবেরংয়ের ফেষ্টুন নিয়ে, বাঁশবাজিয়ে ও স্লোগন সহকারে র‌্যালীটি সমিতি কার্যালয় থেকে বের হয়ে নগরীর বৌদ্ধ মন্দির মোড়ে কিছুক্ষন অবস্থান করেন। সেখানে বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বেলুন উড়িয়ে ময়মনসিংহ দিবসের শুভ সূচনা করেন।পরে র‌্যালীটি সমিতি কার্যালয়ে ফিরে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হন। সভার প্রারম্ভে মোনাজাতের মাধ্যমে সমিতির অস্থায়ী কার্যালয় উদ্ভোধন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email