ভারতের বেঙ্গল চেম্বারের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে চিটাগাং চেম্বারের মতবিনিময়

ভারতের বেঙ্গল চেম্বারের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে চিটাগাং চেম্বারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা :

ভারতের কলকাতাস্থ বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ (গৎ. ঈযধহফৎধ ঝযবশযধৎ এযড়ংয)’র নেতৃত্বে ফুড প্যাকেজিং, সিমেন্ট, স্টীল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইন এন্ড টেকনোলজি, রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা, মিডিয়া, ফার্মাসিউটিক্যালস, পেট্রো কেমিক্যাল ও এলপিজি, ম্যানুফ্যাকচারিং, আইটি, ব্যাংকিং ও নন-ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন সেক্টরের সমন্বয়ে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ২৩ এপ্রিল সকালে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে চেম্বারের সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ ও হাবিব মহিউদ্দিন, ব্যবসায়ী নেতা তাহের সোবহান, উইম্যান চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবিদা মোস্তফা ও সহ-সভাপতি মুনাল মাহবুব, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হারুন, এলপিজি পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ আবদুল মান্নান সোহেল, এইচআরসি’র সিনিয়র পরিচালক কাজী রুকুনউদ্দীন আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বাংলাদেশের পণ্য ভারতে প্রবেশের মাধ্যমে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে আগ্রহী। এছাড়া তিনি বলেন-বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে বাংলাদেশ ও ভারত একসাথে কাজ করতে পারে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্যে দু’দেশ উপকৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চেম্বার সভাপতি আইটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিরসরাই, আনোয়ারায় ইকনোমিক জোন স্থাপন করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভারতের ব্যবসায়ীদের ইকনোমিক জোনে বিনিয়োগের আহবান জানান।

এছাড়া কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জ্ঞাপন করেন। ২০৩০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫০তম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করবে। ভারত এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বেঙ্গল চেম্বার সভাপতি চন্দ্র শেখর ঘোষ বলেন-ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অতীতের চেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। চিটাগাং চেম্বার শতবর্ষীয় একটি বাণিজ্য সংগঠন। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান বিজনেস হাব হিসেবে তিনি ভারতের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন-ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেলে দু’দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বাংলাদেশকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আইটি খাতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। চট্টগ্রাম-কলকাতা বিমান ব্যবস্থা আরো উন্নত করা যায় কিনা এ ব্যাপারের তিনি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া বাংলাদেশের কৃষি খাতে ভারত সহযোগিতা করতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি আখাউড়া, আগরতলা ও কলকাতার মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা করার মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ লাভ করবে বলে জানান।

ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন- বাংলাদেশ ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক অতীতের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের অনেক বড় কোম্পানী বাংলাদেশে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছে। ভারতীয় বিনিয়োকারীদের জন্য বাংলাদেশে ৩টি ইকনোমিক জোন সরকারের বিবেচনাধীন আছে।

এছাড়া ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানী প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিবন্ধন করেছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ভারত জাতীয় পর্যায় হতে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার দিতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমানে ভারতের ভিসা জটিলতা দূর হয়েছে উল্লেখ করে এ বছর ১ লক্ষ ৮০ হাজার বাংলাদেশীকে ভিসা প্রদান করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

আগামীতে বাংলাদেশীদের সুবিধার্থে কলকাতায় তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানান। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন-চিটাগাং চেম্বারের প্রত্যয়নের প্রেক্ষিতে চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যাত্রীদের অন এরাইভাল ভিসা প্রদানের অনুরোধ জানান।

অন্যান্য বক্তরা বৃহত্তর চট্টগ্রামে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ, যৌথভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন, ত্রৈমাসিক মতবিনিময় সভার আয়োজন এবং চট্টগ্রামে ভারতের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক তথ্য কেন্দ্র স্থাপনের আহবান জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email