ভাঙ্গাচোরা রাস্তা আর সংস্কার হলো না, রয়ে গেলো আগের মতোই

আহম্মেদ সারজিল

সন্দ্বীপ নাম শুনতেই মনে হয় অজানা কোন এক রহস্যময় জায়গা। সমুদ্রবেষ্টিত চট্টগ্রামের এই দ্বীপ সন্দ্বীপ উপজেলা। যুগ পাল্টাচ্ছে সেই সাথে পালাবদল হচ্ছে এই দ্বীপের।

এ দ্বীপের মাননীয় সাংসদ জনাব আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান মিতা একান্ত প্রচেষ্টায় সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনেছেন। সেই সাথে ব্লক বেড়ীবাঁধ ও হচ্ছে চারপাশে, যা এখনো নির্মাণাধীন, আশা করা যাচ্ছে এই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উল্লিখিত হবে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সড়কও প্রশস্ত করার কার্যক্রম চলছে।

কিন্তু এই দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের চৌকাতলী ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব নোয়াপাড়া গ্রামটি সবচেয়ে অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত একটি এলাকা। এই এলাকায় নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই কোন ভালো একটি রাস্তা। এই এলাকায় কিছুদিন আগে আবদুল আহাদ সড়কটি বেড়ীবাঁধ পর্যন্ত উন্নয়ন কাজ(সলিন) আসলেও বেড়ীবাঁধ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে এসে কাজটি থেমে যায় কারণ বাকি যে ৪০০ মিটার রাস্তা সেটি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ছিড়ে যায় গতবছর যা আজ পর্যন্ত সংস্করণ করা হয়নি।

এই এলাকাসহ সারিকাইত ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রায় ১০০ জন মানুষের জীবিকার মাধ্যম হলো মৎস আহরণ। স্থানীয় বাজারের ৬০-৭০ শতাংশ মাছের যোগান এই এলাকা থেকে হয়।বেড়ীবাঁধ এলাকায় অন্তত ৩০-৪০টি পরিবার বসবাস করে যাদের যাতায়াত এর একমাত্র রাস্তা হলো এটি।

সামান্য জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাটি, যার ফলে জোয়ার থাকা পর্যন্ত ওই পরিবার গুলোর আসা-যাওয়া একেবারে বন্ধ। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ঘূর্ণিঝড়, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। দূর্যোগের সময় ওই পরিবার গুলোকে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় যাতায়াত ব্যাবস্থা কারণে। এই রাস্তায় প্রতিদিন অন্তত ৪০০ মানুষের যাতায়াত।

এই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলার সময় দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছে অনেকেই। এই রাস্তার কারণে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেক মানুষকে। দিনের আলোয় কষ্ট করে চলাচল করলেও রাতের বেলা তা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। যারা মৎস আহরণ করে বিশেষ করে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে তারা কারণ যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নত না থাকার কারণে অনেক সময় মাছ যথাযথ সময়ে ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে পারে না এবং সংরক্ষণ এর ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই যার ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

আর দূর্যোগের সময় অনেক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেড়ীবাঁধ এলাকায় মাঝে মধ্যেই নানান ধরনের অপকর্ম সংগঠিত হয়ে থাকে যার ফলে প্রশাসন যখন কোন অভিযান চালায় তখন রাস্তার কারণে বাধার মুখে পড়ে এবং সঠিক ভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না।

সেই সাথে রয়েছে মনোমুগ্ধকর দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলি যা দেখে বিমোহিত করবে পর্যটকদের ইতোমধ্যে অনেক পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত রাস্তার অভাবে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক পর্যটক।

সবমিলিয়ে উক্ত রাস্তার নির্মাণ কাজ অত্যান্ত আবশ্যক। দীর্ঘদিন ধরে এই দূর্ভোগ সহ্য করে জীবন-যাপন করে আসছে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিমত হলো এই রাস্তাটি যদি সংস্কার করা হয় তাহলে অনেক মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হবে, ভাগ্য বদলাবে অনেক মানুষের।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email