বোলারদের দিনে রাজ্জাকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

সিরিজ নির্ধারণী ঢাকা টেস্টের শুরুতে বোলারদের দাপট। আভাস মিলছে লো-স্কোরিং ম্যাচের। রাজ্জাক-তাউজুলের স্পিন ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২২২ রানে অলআউট করে ৪ উইকেটে ৫৬ রানের অস্বস্তি সঙ্গী করে প্রথম দিন পার করেছে বাংলাদেশ। এখনো পিছিয়ে ১৬৬ রানে।

শুরুতেই তামিম-মুমিনুল-মুশফিককে হারানোর ধাক্কা সামলে উঠলেও অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ ইমরুল কায়েস ও লিটন দাস। দুই ওভার বাকি থাকতে বিদায় নেন ইমরুল (১৯)। দিলরুয়ান পেরেরার বলে এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন। দু’জনের পার্টনারশিপে আসে ৩৩। ২২ ওভার শেষে লিটন ২৪ ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ওভারেই তামিম ইকবালের (৪) ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন সুরাঙ্গা লাকমল। পরের ওভারে রানআউটের ফাঁদে পড়েন আগের ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকানো মুমিনুল হক (০)। বোল্ড হয়ে পেসার লাকমলের দ্বিতীয় শিকার মুশফিকুর রহিম (১)। ১২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিক শিবির।

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত রান উৎসবের প্রথম টেস্ট ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়।

দারুণ বোলিং নৈপুণ্যে শুরু থেকেই সফরকারীদের চাপের মুখে রাখে টাইগাররা। ৬৫.৩ ওভারে সবকটি উইকেটের পতন ঘটে। শেষ ব্যাটসম্যান রোশেন সিলভাকে (৫৬) ফিরিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের সমান চারটি উইকেট দখল করেন তাইজুল ইসলাম। অন্য দু’টি নেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটশূন্য থাকেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

দীর্ঘ ৪ বছর পর টেস্ট ম্যাচে প্রত্যাবর্তনে নিজের জাত চেনান রাজ্জাক। বল হাতে ইনজুরি আক্রান্ত সাকিব আল হাসানের অভাব পূরণে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ বাঁহাতি। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে এই প্রথম ইনিংসে চার উইকেট পেয়েছেন।
সর্বোচ্চ ৬৮ রান আসে ওপেনার কুশল মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। দলীয় স্কোর দুইশ’

দলের ১১০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে লড়াকু স্কোরের ভিত পায় সফরকারীরা। সপ্তম উইকেট জুটিতে স্কোরবোর্ডে ৫২ রান তোলেন রোশেন সিলভা ও দিলরুয়ান পেরেরা (৩১)। টেস্ট অভিষিক্ত আকিলা ধনাঞ্জয়াকে (২০) নিয়ে আরও ৪৩ রান যোগ করেন সিলভা। ২০৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় লঙ্কানরা।

দিনের প্রথম সেশনে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩১ ওভারে চার উইকেটে ১০৫। যেখানে তিনটি উইকেটই দখলে নেন রাজ্জাক। ২৮তম ওভারে জোড়া আঘাত হেনে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। দানুশকা গুনাথিলাকাকে (১৩) মুশফিকের ক্যাচবন্দি করার পর দিনেশ চান্দিমালকে (০) গোল্ডেন ডাক উপহার দেন।

প্রথম ব্রেকথ্রু আসে রাজ্জাকের হাত ধরে। টেস্টে প্রত্যাবর্তনের শুরুতেই সতীর্থদের উদযাপনের মধ্যমণি বনে যান তিনি। ষষ্ঠ ওভারের মাথায় ওপেনার দিমুথ করুণারত্নেকে (৩) ফিরিয়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপে কাঁপন ধরান। লিটন দাসের স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email