বৃষ্টিতে ভাসছে রাজধানী ; ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

শনশন বাতাসের পাগলা নাচন আর বৃষ্টির শব্দে সকালে ঘুম ভাঙে রাজধানীবাসীর। সকালের ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়। এতেই রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা হাঁটু পানিতে ডুবে যায়।

বৃষ্টিতে সড়কে যানবাহন চলাচলও থমকে গিয়ে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে আজ বুধবার সকালে অনেকে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যেতে পারেননি। এছাড়া বিভিন্ন সড়কে যানবাহন কম থাকায় দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া লোকজন।

বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানায়, সকাল ৭টা থেকে সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সারা দিন ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। সারাদিন হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাত আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকবে। পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর শ্যাওড়াপাড়া থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত পুরো রাস্তায় হাঁটু পানি। মেট্রোরেলের চলমান কাজের কারণে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে মিরপুরের প্রধান সড়ক খালে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর শাহাজানপুর, ফকিরপুল, নয়াপল্টন, ভুতেরগলি, গ্রিণরোড, মোহাম্মদপুর টাউন হলসহ নিচু এলাকাগুলোতে জমে যায় হাঁটু থেকে কোমর পানি। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পাঁচ মিনিটের পথ যেতে লাগে দুই ঘণ্টা। সকালের পর থেকে রাজধানীর প্রায় সর্বত্রই ছিল যানজট।

বাসসহ অন্যান্য পরিবহনের যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই ফুট উঁচু ফুটপাত পর্যন্ত তলিয়ে যায় পানিতে। তাই হেঁটে চলার উপায়ও ছিল না।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশার বিকল হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে।

শাহাজানপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন বলেন, এখনো বাসার নিচে পানি জমে আছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। জলাবদ্ধতার কারণে ঘর থেকেও বের হতে পারিনি।

নগরের মিরপুর এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী মিজানুর রহমান বলেন, সড়কে পানি জমে থাকার কারণে বাচ্চাদের নিয়ে তিনি স্কুলে যেতে পারেননি। সড়কে বাস, কারসহ যান চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। এ সুযোগে রিকশা ও ভ্যানচালকেরা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন গুণ ভাড়া আদায় করেন।

মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনের রাহান আল রশিদ বলেন, গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে কোমর ব্যথা হয়ে গেছে। নিচে পানি তাই হাটতে পারছিলাম না। এমন কষ্ট সহ্য হয় না।

মিরপুর রুটে মোটর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন কামাল হোসেন। তিনি জানান, পুরো রাস্তা পানি জমে আছে। অনেক কষ্টে কাজীপাড়া পর্যন্ত এসেছি। রাস্তা ভাঙাচুরা, দুই পাশে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। নিচে পানি, ডানে গাড়ি বায়ে গাড়ি। সবকিছু নিয়ে মহামারি অবস্থা। জানি না এ দুর্ভোগ কবে শেষ হবে।

হিমাচল পরিবহনের চালক আমজাদ জানালেন, শ্যাওড়াপাড়া থেকে ১০ নম্বর যেতে সময় লেগেছে সোয়া দুই ঘণ্টা। স্বাভাবিক সময়ে ১০ মিনিটও লাগে না। ইঞ্জিনে পানি প্রবেশ করায় রাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে বেশ ক’টি প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এতে যানজট আরও বাড়ে। কাজীপাড়ায় জলাবদ্ধতা ছিল সবচেয়ে বেশি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

2 thoughts on “বৃষ্টিতে ভাসছে রাজধানী ; ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

  • July 16, 2019 at 4:52 PM
    Permalink

    Viagra Cheap Sold In Us Viagra Rezeptfrei Bestellen Forum Fluoxetine Visa No Doctor C.O.D. Express Delivery Order Levitra Without A Prescription

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email