‘বাংলাদেশ দেখবে জামালখান’ স্লোগানকে সামনে নিয়ে ২০ জন মনীষীর টাইলস ম্যুরাল উদ্বোধন

বাংলাদেশ দেখবে জামালখান’। এ বক্তব্যকে আরেকধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল ‘বরেণ্য বাঙালি’। ২০ জন মনীষীর টাইলস ম্যুরাল আর অমর বাণীতে শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য এ শিল্পকর্মটি তৈরি করেছেন।

 

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক আজাদী পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের উদ্যোগে স্থাপিত হয়েছে এ শিল্পকর্ম।

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কবি জীবনানন্দ দাশ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ফকির লালন শাহ, মাস্টারদা সূর্য সেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অতীশ দীপঙ্কর, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পল্লিকবি জসীম উদদীন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান ও ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের আলোকসজ্জিত ম্যুরালগুলো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বেশ।

 

বুধবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর জামালখানের সেন্ট মেরি’স স্কুলের দেয়ালে দৃষ্টিনন্দন এ শিল্পকর্মের উদ্বোধন করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক ও মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত।

 

মেয়র বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অনেকে শিক্ষিত হলেও অনেক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, গর্ব করার মতো অতীতের কথা জানে না। আমাদের সমৃদ্ধ অতীত আছে। আমাদের মনীষীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। শ্রীকান্ত আচার্যের করা ২০ বরেণ্য ব্যক্তিত্বের ম্যুরাল সুনিপুণ কর্ম মনে হয়েছে।

 

তিনি বলেন, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ আছে। উদ্যম আছে। সে কিন্তু অনেকের চোখ খুলে দিয়েছে। আমি শুধু একটি ভিশন সবার সামনে দাঁড় করিয়েছি গ্রিন ও ক্লিন সিটি। অনেকে এটা বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসেনি। এখন তার দেখাদেখি অনেক কাউন্সিলর এগিয়ে আসছে। এখন কিন্তু অনেকে লজ্জা বোধ করছেন। তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এখন অনেক ওয়ার্ডে একসঙ্গে কাজ শুরু হয়েছে। সুমনকে পথিকৃৎ বলা যায়সোহেল সরওয়ার, বাংলানিউজ গ্রিন ও ক্লিন সিটি করার ক্ষেত্রে সুমন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুটি জায়গায় দৈনিক আজাদী এগিয়ে এসেছেন। দৈনিক আজাদীসহ সব পৃষ্ঠপোষককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য আমাকে বলেছেন গত তিন মাস ১৪ ঘণ্টা কাজ করে এ ম্যুরালগুলো তৈরি করেছেন। জামালখানে দাঁড়ালে মনে হবে বিদেশের কোনো জায়গায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি। সিটি মেয়রের গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি স্লোগান সামনে রেখে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পর আমাদের মনে হয় যে স্বপ্ন, আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, যে আদর্শের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছেন বাংলাদেশ অনেক দূরে সরে গেছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম যদি অতীতের ইতিহাস জানতে পারে, অতীতের নায়কদের জীবনী পাঠ করতে পারে এবং তার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে যে স্বপ্ন দেখে ৩০ লাখ বাঙালি আত্মোৎসর্গ করেছিলেন, প্রয়াত ফেরদৌস প্রিয়ভাষিণীসহ আড়াই লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ ম্যুরাল চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে এগিয়ে নেবে।

শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ দেখবে জামালখান’ স্লোগানে যখন জামালখানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করি তখন অনেকে বলেছিলেন পাগলের প্রলাপ। এখন সেটি সবার মুখে মুখে। অনেকে জামালখান দেখতে আসছেন। আমরা একে একে অনেক কাজ করেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বাঙালির মনীষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সভ্যতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারছি মালেক আংকেলদের (আজাদী সম্পাদক) সহযোগিতার কারণে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক, জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, সমাজসেবক আবদুল মান্নান ফেরদৌস, মো. সাহাব উদ্দিন, প্রকৌশলী অজয় পাল, শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য প্রমুখ।

তিনি বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়ে আমাদের উদ্বেলিত করেছিলেন। এ ম্যুরালগুলো স্বাধীন বাংলাদেশকে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য যুবসমাজকে লেখাপড়ার পাশাপাশি ইতিহাস অনুধাবনে উদ্বুদ্ধ করবে।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু মুজিব সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। সেই ভাষণ, সেই আবেদন আপনারা শুনেছেন। যদি আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে শুধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বরের ঘটনা বলে মনে করি সেটি সত্য নয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বাঙালির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণের মুক্তির আন্দোলনের ইতিহাস ২০টি ম্যুরালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ম্যুরালের মধ্য দিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য বেঁচে থাকবেন বাঙালির অন্তরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email