প্রাথমিক শিক্ষায় বাচ্চাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনবিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার তাগিদ: প্রধানমন্ত্রী

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক আইন-কানুন বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২২ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

একনেক সভায় ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বাচ্চাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। যাতে শিক্ষার্থী নিজের পাশাপাশি পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা অর্জন করে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই হাইওয়ে রয়েছে। তাই ট্রাফিক আইন কানুনও শেখাতে হবে ছোটবেলা থেকেই। কীভাবে রাস্তা পার হতে হয়, কীভাবে ওভারপাস ও ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হয়- এ বিষয়ে বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষা দিতে হবে।

একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। বাচ্চাদের বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিসহ আরও একটি ভাষা শেখাতে হবে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান।

পিইডিপি-৪ প্রকল্পটি সমগ্র বাংলাদেশে জুলাই ২০১৮ থেকে জুন, ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে।

বাংলাদেশ সরকার ৫ বছর বয়সী সব শিশু প্রি-প্রাইমারি এবং এর পরবর্তী ১ম-৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্যই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় পাঠ্যসূচিতে নির্ধারিত শ্রেণীভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক শিখন যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুণগতমানের উন্নয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে প্রকল্পটি।

এ প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম- প্রি-প্রাইমারি ও ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমান পাঠ্যসূচির সংশোধন, সব বিদ্যালয়ে যোগ্যতাভিত্তিক টিচিং-লারনিং শিক্ষা উপকরণ দেওয়া ও নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা।

প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের ব্রিটিশ কাউন্সিলের (সিঙ্গেল সোর্স) মাধ্যমে ইংরেজি বিষযে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হয়।

একনেকে ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মোট ১৫টি চিনিকলে বার্ষিক গড় চিনি উৎপাদন ক্ষমতা ২ দশমিক ১ লাখ মেট্রিক টন। অথচ এসব চিনিকল বছরে মাত্র ৩ মাস সচল থাকে এবং আখের অভাবে বাকিটা সময় বন্ধ থাকে।

‘র’ সুগার আমদানি করে এবং ‍সুগারবিট দেশে উৎপাদন করে সমস্ত চিনিকল ১২ মাস সচল রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email