নদীতে নৌকা দিয়ে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছে জেলেরা চট্টগ্রামে

প্রাকৃতিক মৎস ভান্ডার হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

নিজস্ব সংবাদদাতা :

 ২০ এপ্রিল১৮, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মিঠা পানির মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা দিকে বৈশাখ মাসে বছরে প্রথম বৃষ্টিপাতের পর ২০ এপ্রিল শুক্রবার ভোরে মা মাছেরা ডিম ছেড়েছে।

এর আগের দিন থেকে রাত আড়াইটা থেকে জেলেরা রাত জেগে টর্চলাইট, চার্জলাইট জ্বালিয়ে পাহারা দিয়ে আসছিল নদীতে। অবশেষে শুক্রবার ভোরে তারা আশানুরুপ ডিমের দেখা পায়। হালদা পার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় এক হাবার জেলে ৪০০টি ছোট ছোট নৌকায় করে এসব ডিম সংগ্রহ করেছেন বলে জানান জেলেরা।

এদিন ভোর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৮০ কেজির বেশি রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালবাউশের তাজা ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের রাউজান ও হাটাজারী দুটি পাশাপাশি উপজেলার উপর দিয়ে যাওয়া হালদা নদীর প্রায় ১৪ কি:মি: এলাকা থেে বিশেষভাবে তৈরি জাল দিয়ে থেকে এসব ডিম সংগ্রহ করেন স্থানীয় ডিম সংগ্রগকারী জেলেরা।

জানাগেছে, গত দুইদিন বৃষ্টি হলেয় নদীতে ঢলের সৃষ্টি হওয়ায় ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। প্রতিবছর এপ্রিল-মে মাসে প্রথম বৃষ্টি পাতে প্রাকৃতিক মৎস ভান্ডার হালদা নদীতে মা মাচেরা নদীতে ডিম ছাড়ে। এ সময় জেলেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে ডিম সংগ্রহের জন্য। জেলার হাটহাজারী উত্তর মাদার্শা মাছুয়াঘোনা এলাকার জেলে নুরুল আলম জানান, বিকালের দিকে মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। তখনই আমরা ডিম সংগ্রহকারীরা নদীতে নেমে পড়ি। হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল আলম জানান, অনেক অপেক্ষার পর জেলেরা নদীতে ডিমের দেখা পায়।

এ সব ডিম সংরক্ষনে আমরা সার্বক্ষণিক ডিম সংগ্রহকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। ডিম সংগ্রহের পর হ্যাচারীতে পরিচর্যার ব্যাপারে আমাদের টিম সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মনজুরুল কিবরীয়া জানান, বিগত ১০ বছরের মধ্যে এবার রেকর্ডসংখ্যক ডিম সংগ্রহ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভারী বৃষ্টি হওয়ার পর বিকেলে নমুনা ডিম ছেড়ে মা-মাছগুলো পরিবেশ উপযোগী কিনা দেখেছে। এর পর মধ্যরাতে মৌসুমের প্রথম ডিম ছাড়ে মা মাছগুলো। মনজরুল কিবরীয়া আরো জানান, আবহাওয়াসহ সব কিছু ঠিক থাকলে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি ডিম থেকে আনুমানিক ৩৭৮ কেজি রেণু তৈরি হবে। এক কেজি রেণুতে চার-পাঁচ লাখ পোনা হবে। পরিমাণমতো পানিসহ এক কেজি রেণু গত বছর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা বিক্রি হয়েছিল।

এ হিসাবে এবার যে ডিম হয়েছে চার দিন পর সেগুলোর দাম হবে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা। এরপর পোনাগুলো কেজি দরে বিক্রি হবে। হালদার মাছের ডিম থেকে উৎপাদিত পোনা বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রান ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেজ্ঞরা জানান এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভাল পরিবেশে ডিম সংগ্রহের কাজটা সেরে নিয়েছে জেলেরা। এ ছাড়া বছরজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সরকারের নানা উদ্যোগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রণোদনা ছিল। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা পিকেএসএফ এবং আইডিএফ হালদাপারের মানুষকে সচেতন করেছে, ডিম সংগ্রহকারীসহ জেলেদের নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে। তিনটি স্পিড বোট দিয়েছে হালদায় অভিযান পরিচালনার জন্য। বোটগুলো প্রচুর অবৈধ জাল জব্দ করা, বালু তোলার ড্রেজার তাড়ানোসহ নজরদারির নানা কাজে লেগেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email