পিএসজিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে আটকে রাখতে পারলো না পিএসজি। পারলো না কঠিন সমীকরণ মেলাতে। উল্টো হেরে বসল আবারও। লিগ ওয়ানে শীর্ষে থাকা ক্লাবটিকে দুই লেগেই হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলো রিয়াল মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বে পিএসজির মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে গত দুবারের চ্যাম্পিয়নরা। গত মাসে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ৩-১ গোলে জেতা দলটি দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানের অগ্রগামিতায় পরের রাউন্ডে উঠলো।

ম্যাচের শুরুর দিকে রিয়ালের খেলা ছিল অগোছালো। সেই সুযোগে তাদের রক্ষণে চাপ চাপ সৃষ্টির চেষ্টায় ছিল পিএসজি; কিন্তু তাদের আক্রমণগুলো ছিল ধারহীন।

১৮তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম সুযোগটি পায় রিয়াল। ডান দিক থেকে লুকাস ভাসকেসের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে সের্হিও রামোসের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। ৩৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গোলরক্ষককে একা পেয়েও হতাশ করেন করিম বেনজেমা। তার শট আলফুঁস আরিওলার পায়ের নিচের দিকে লেগে পাশের জাল স্পর্শ করে।

এই অর্ধের শেষ দিকে দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় পিএসজির। ৪১তম মিনিটে দুরূহ কোণ থেকে আনহেল দি মারিয়ার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান কিলিয়ান এমবাপে, পাশেই ছিলেন এদিনসন কাভানি; কিন্তু সতীর্থকে পাস না দিয়ে কেইলর নাভাস বরাবর শট নিয়ে বসেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ‘পিএসজি এন্ডের’ ঠিক পিছনের গ্যালারিতে দর্শকরা ফ্লেয়ার ছুড়তে থাকে। তাতে স্বাগতিক ডি-বক্সে ও তার আশে অনেক ধোঁয়া তৈরি হয়। কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধও থাকে।

৫০তম মিনিটে বাঁ-দিক থেকে মার্সেলোর ক্রসে রোনালদোর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে আর ব্যর্থ হননি তিনি। এবার বাঁ-দিক থেকে ভাসকেসের ক্রসে ছয় গজ বক্সে অনেকটা লাফিয়ে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড হেডে বল ঠিকানায় পাঠালে রিয়ালের শেষ আটে ওঠা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি পর্তুগাল অধিনায়কের ১১৭তম গোল।

ইউরোপ সেরার এবারের আসরে এই নিয়ে আট ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই জালের দেখা পেলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো। এই সময়ে তার গোল ১২টি।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ছয় ম্যাচে এ নিয়ে ১১ গোল করলেন রিয়ালের সবচেয়ে বড় তারকা।

৬৬তম মিনিটে আরেকটি ধাক্বা খায় পিএসজি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কো ভেরাত্তি। চার মিনিট পর মার্কো আসেনসিওর শট লাগে পোস্টে।

৭১তম মিনিটে সৌভাগ্যপ্রসূত গোলে সমতায় ফেরে পিএসজি। দি মারিয়ার ক্রসে ডাইভিং হেড করেন হাভিয়ের পাস্তোরে। বল প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ছয় গজ বক্সে কাভানির হাঁটুতে লেগে জালে জড়ায়। কিছুই করার ছিল না নাভাসের।

৮০তম মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন কাসেমিরো। ডি-বক্সে জটলার মধ্যে আলগা বলে তার শট ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োসের পায়ের নিচের দিকে লেগে দিক পাল্টে ভিতরে ঢোকে। কিছুই করার ছিল না আরিওলার।

দুই মিনিট পর ভাসকেসের শট পোস্টে বাধা পেলে ব্যবধান আর বাড়েনি।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার শেষ ষোলো থেকে ছিটকে পড়লো পিএসজি।

১১৬ বছর আগে ১৯০২ সালে এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবের জন্মবার্ষিকীতে সমর্থকদের উৎসবের দারুণ এক উপলক্ষ্য উপহার দিল জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুল ও পোর্তোর মধ্যকার দিনের অন্য ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। তবে প্রথম লেগের ৫-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email