নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভরাডুবি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান তারার পরাজয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারই ভাই কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ শওকত হোসেন সানু। মঙ্গলবার লিখিত এক অভিযোগে তিনি দলীয় প্রার্থীকে দলের নেতৃবৃন্দের অসহযোগিতার বিশদ বর্ণনা দিয়ে এসব বলেছেন। ৭৭২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়ে মীর তারিকুজ্জামান তারা নিজেও উপস্থিত থেকে এমনতর অভিযোগ তুলেন। উভয় দাবি করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন এবং লালুয়া ইউনিয়নের দুই একজন দায়সারা গোছের কর্মকান্ড করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার করেও শেষের দুই দিন তার আত্মীয় পাঁখা প্রতীকের প্রার্থীকে এক, দুই ও তিন নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেয়ার জন্য উঠেপড়ে কাজ করেছেন বলে তাদের অভিযোগ। শওকত হোসেন সানু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি আলহাজ মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম রাকিবুল আহসানকেও প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন।

তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সমর্থক পাল্টা অভিযোগ করে দাবি করেন, চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান তারার সীমাহীন দুর্নীতির কারনে দলের কর্মী-সমর্থকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা উত্তোলনে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার নামে তার ভাইদের এবং একটি চক্র মিলে এসব করেছেন। আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীরা তার কবল থেকে রক্ষা পায়নি। আর এসব করেছেন তার বিএনপি নেতা এক ভাই। এমনকি লালুয়া বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান মেম্বারকে নিয়ে এই চক্র গঠণ করেছেন চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান তারা। এঘটনা এলাকায় এমন কোন মানুষ নেই এসব না জানে। বর্তমানে নৌকা অধ্যুষিত এই জনপদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের পাল্টা অভিযোগ তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, তৃণমূলের পছন্দের এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী তারা প্রথমেই নির্বাচন করে জানিয়েছিলেন। আগামি সংসদ নির্বাচনে তারা লালুয়া ইউনিয়নে ঠিকই শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন।

উল্লেখ্য, ২৫ জুলাই লালুয়ায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে শওকত হোসেন বিশ^াস ৪৭৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধী ইসলামী আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন পেয়েছেন ৩৭৭৩ ভোট। এই নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী সজল বিশ^াস ৪৫১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

আমিরুল মুকিম // বুধবার, ০১ আগস্ট ২০১৮ // ১৭ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email