নেই পর্যটকদের কোলাহল; রমজান ও প্রচন্ড তাপদাহের প্রভাব কুয়কাটা সৈকতে

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥ প্রচন্ড তাপদাহ আর রমজানে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকত জুড়ে রয়েছে শুনসান নিরবতা। পুরো সৈকত জুড়ে এখন ধু-ধু বালুচরের কোথাও নেই পর্যটকদের কোলাহল। ফলে পর্যটন কেন্দ্রীক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে পরেছে।পর্যটক শূন্য বালুচরে এখন দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার ছুটে বেড়ানো আর গর্জন তুলে তীরে আছড়ে পড়া সাগরের ঢেউ। শুধুমাত্র কয়েকটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকসহ ও ফটোগ্রাফার সৈকতে অবস্থান করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটত।রমজান মাস আর তীব্র তাপ প্রবাহের কারনে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যটক শূন্য হয়ে গেছে। ফলে বিগত কয়েকদিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকের দেখা মেলেনা। এছাড়া পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূল জুড়ে প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন বিপরযস্থ হয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসেও স্বস্তি মিলছেনা। অনেকেই একটু স্বস্তির জন্য দিনের বেলায় গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। ফলে ঈদের মার্কেট হওয়া সত্বেও বিক্রি অনেক কম হচ্ছে বলে ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন।

সৈকত লাগোয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আবদুল মন্নান জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে গরম ও পবিত্র রমজানের কারনে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। আমাদের দোকানগুলো খোলা হয়নি। ফটোগ্রাফার আলী হোসেন জানান, এখন কোন পর্যটক আসছে না। তাই এই মাস বসে থাকতে হচ্ছে। হোটেল গ্রান্ড সাফা ইন্’র ম্যানেজানর মো. সাইদুর রহমান জানান, রোজার শুরু থেকে একটি রুমও বুকিং হয়নি। বর্তমানে হোটেলের বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা দু:স্কর হয়ে পড়েছে। এখন বসে বসে খাচ্ছি আর হোটেল পাহাড়া দিচ্ছি।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, প্রতি বছরই রমজান মাসে পর্যটকদের সংখ্যা কম থাকে। এ কারনে বর্তমানে হোটেল-মোটেলের সিট ফাঁকা রয়েছে। আশা করি রোজার পর ঈদে ব্যাপক পর্যটকরে চাপ থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email