নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংস এবং কান্ড জ্ঞানহীন পরিবেশ দূষণের মধ্য দিয়ে মানুষ তাদের সুন্দর এ পৃথিবীতে ডেকে এনেছে এক মহাবিপর্যয়

কুতুব উদ্দিন রাজু,চট্টগ্রাম : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উৎযাপন উপলক্ষে ৫জুন ২০১৮ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর এশিয়ান এস.আর. হোটেল লিঃ এর অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির আয়োজনে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এইবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “প্লাষ্টিককে না বলুন! প্লাষ্টিক পুনঃ ব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি” এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু দুলাল কান্তি বড়ুয়া। সবুজ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকারে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরী শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট এ.কে.এম. আবু ইউসুফ। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। সংগঠনের সদস্যসচিব লায়ন আবু তাহেরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যাংকার এম. ওসমান গণি, বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন, চিকিৎসক ও সংগঠক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইউনুছ কুতুবী, সাংবাদিক আবদুন নুর চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক মিন্টু কুমার দাশ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের নেতা বেলাল হোসেন মিঠু, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম, সংগঠক স.ম. জিয়াউর রহমান, মোঃ কুতুব উদ্দিন রাজু, রাজিব চক্রবর্তী, ডাঃ মহিবুল আলম, ফোরক আহমেদ, মৌলভী আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক সৈয়দ শিবলী ছাদেক কফিল, নারী নেত্রী সোমিয়া সালাম, সাংবাদিক অনুতোষ দত্ত বাবু, বেলাল বিন আমির, টিটু বড়ুয়া, শহিদুল ইসলাম প্রমূখ। সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের পথ ধরেই মানুষ একটু একটু করে গড়ে তুলেছে নিজের পরিবেশ। মানুষের রচিত পরিবেশ তারই সভ্যতার বিবর্তন ফসল। মানুষ তার নতুন নতুন আবিষ্কারের প্রতিভা, পরিশ্রম আর দক্ষতা দিয়ে সংগ্রহ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন পদ্ধতি। অধিগত করেছে জীবন-বিকাশের নানা উপকরণ। তাই দিয়ে সে তার নিজের প্রয়োজন রুচি অনুযায়ী তৈরি করেছে তার পরিবেশ। এ পরিবেশের মধ্যেই তার বিকাশ, তার বিনাশের ইঙ্গিত। বক্তারা আরো বলেছেন, বিজ্ঞানের নিরুঙ্কুশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৃথিবীতে ডেকে আনা হলো অতি যান্ত্রিকতা। বায়ুমন্ডলে আজ আর নেই সেই প্রথম দিনের বিশুদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। পরিবেশে নেই জীবনের সুনিশ্চিত আশ্বাস। নির্বিচারে প্রকৃতি ধ্বংস এবং কান্ড জ্ঞানহীন পরিবেশ দূষণের মধ্য দিয়ে মানুষ তাদের সুন্দর এ পৃথিবীতে ডেকে এনেছে এক মহাবিপর্যয়। তাই পৃথিবী আর কত দিন বেঁচে থাকবে, তার বুকে সঞ্চারনমান প্রাণ বা আর কতদিন টিকে থাকবে তা শুধু পদার্থবিদ্যার সূত্রের উপরই নির্ভর করছে না, তা আজ নির্ভর করছে মানুষের উপরও। মানুষ পরিবেশের অংশ এবং প্রত্যক্ষ সুফল ভোগকারী। পরিবেশ বিপর্যস্ত হলে মানুষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়, মানুষের ব্যবহার্য প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হয়, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। তাই সুস্থ্য শরীর ও মন বিনির্মাণে বিপর্যয়মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি প্রয়োজন। সভায় বক্তারা আরো বলেছেন, বাংলাদেশের বিপন্ন পরিবেশ রক্ষার জন্য গণসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরী। বক্তারা চট্টগ্রামে নদী, খাল, বিল, পুকুর, দিঘী, জলাশয় ও পাহাড়-পর্বত রক্ষার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলার আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email