ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের ক্ষমতাধর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছে ইরান।

তবে ইরানের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, ইরানের ওই হামলায় কোন মার্কিন সেনা মারা যায়নি।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন দাবি করেছে, হামলার সময় মার্কিন সেনারা বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিলেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা খবর আগে থেকেই জানত মার্কিন সেনারা। তাই হামলা শুরুর আড়াই ঘণ্টা আগে বিমানঘাঁটির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান নেয় সেনারা।সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধি আরওয়া ডামন সম্প্রতি ওই বিমানঘাঁটি ঘুরে এসে ইরানি হামলার ভয়াবহতার বিবরণ দিয়েছেন।পাশাপাশি হামলায় মার্কিন বিমানঘাঁটির ধ্বংস্তূপের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সিএনএন।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সেনাদের ড্রয়িং রুম ও বাসস্থান ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার পর ভবনগুলোতে আগুন ধরে পুড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঘাঁটির মার্কিন সেনাদের অংশে হামলা চালায়। এতে ওই ঘাঁটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা ধ্বংস হয়েছে।

ঘাঁটির মার্কিন সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টাসি কলেমস্যান দাবি করেন, হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে তারা বাঙ্কারে লুকিয়েছিলেন।

তবে হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি সিএনএন।

আরবের এক কূটনীতিক সিএনএনকে জানিয়েছেন, মার্কিন অবস্থানে হামলা চালানোর আগেই ইরাককে সতর্ক করে দেয় ইরানি কর্মকর্তারা। তবে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হবে তা জানায়নি তারা।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত করে রাত একটা ৩৪ মিনিটে। পরে হামলা শুরুর আগে প্রায় ১৫ মিনিট বিরতি দেয়া হয়।

এছাড়া আরও দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাঙ্কার থেকে বেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email