নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারে ‘ফুটকা’ আতঙ্কে এলাকাবাসী

বৈধ উপায়ে সংযোগ না পেয়ে অভিনব কায়দায় ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে গ্যাস সংগ্রহ করছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দারা। বেলুন আকৃতির বিশেষ পলিথিনে গ্যাস সংগ্রহ ও জমা করছেন তাঁরা। এতে গোটা এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বেলুন বা পলিথিনে গ্যাস সংরক্ষণের এ পদ্ধতির নাম স্থানীয়রা দিয়েছেন ‘ফুটকা’। মূল লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ফুটকায় সঞ্চিত করে রাখা হয় অতিরিক্ত গ্যাস। সেখান থেকে যেকোনও সময় গ্যাস ব্যবহার করা যায়।

অভিনব এই পদ্ধতিতে গ্যাস সংগ্রহ করতে পেরে স্থানীয়রা খুশি হলেও যেকোনও সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা। কিন্তু বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না ব্যবহারকারীরা।

ফুটকা গ্যাস ব্যবহার করছেন নারায়ণগঞ্জের এক নারী বাসিন্দা বলছেন, ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ করে গ্যাসের লাইন নিয়েছি।কিন্তু গ্যাস থাকে না। রাত এক-দুইটার সময় ঘুম থেকে উঠে আমরা এই গ্যাস পলিথিনে ভরে রেখে দিই। এরপর অল্প অল্প করে ব্যবহার করে দিনের বেলায় রান্না করি।

তবে সবাই এই গ্যাস ব্যবহার করে না বলে জানিয়েছেন আরেকজন। তিনি বলেন, আগে আমরা এটা ব্যবহার করতাম, কিন্তু ঝুঁকির কথা জেনে আর ব্যবহার করি না।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক ও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ এ সংযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি চালু আছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলছেন, হাতে বহন করে ব্যবহার করা পুরোপুরি অবৈধ। যদি গ্যাস কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ এ ব্যাপারে আমার কাছে অভিযোগ দায়ের করে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

তবে এ ব্যাপারে এতদিন চুপ থাকলেও এখন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

নারায়ণগঞ্জে তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী বাসু দেব শাহ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো। এ নিয়ে কাজ চলছে। আমরা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email