দেশে ডাক্তারি পেশা দুর্বৃত্তের পেশায় পরিণত হয়েছে,নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘট ডাকা অন্যায়

নিউজ ডেস্কঃ কিছু দুর্বৃত্তের কারণে চিকিৎসা পেশার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তাদের কারণে দেশে ডাক্তারি পেশা দুর্বৃত্তের পেশায় পরিণত হয়েছে। নিজেদের ভুল ঢাকাতে ধর্মঘট ডাকা আরও অন্যায়। এ মন্তব্য করলেন হাইকোর্ট।

আজ(সোমবার) চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরের অস্ত্রোপচারে ২০ জনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এই ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ রিটের শুনানিতে আদালত এ মন্তব্য করেন।

আজ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে চক্ষু শিবিরের অস্ত্রোপচারে ২০ জনের ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে জানাতে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসাপাতালগুলোতে অবরোধ ডাকা প্রসঙ্গে আদালত বলেন, মানুষ বিপদে পড়লে ডাক্তার, পুলিশ ও আইনজীবীদের কাছে যায়। কিন্তু এ পেশার কতিপয় দুর্বৃত্তের কারণে পেশার সুনাম নষ্ট হয়।

আদালত আরও বলেন, নিজেদের ভুল ঢাকতে ধর্মঘটের ডাক দেয়া অন্যায়। দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পাবলিক পারসেপশন ভালো না এবং ডাক্তারদের ব্যবহারও ভালো না বলে মন্তব্য করেন আদালত।

আদালত বলেন, দেশে অনেক স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং ভালো মানের চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকা পরও কতিপয় ভুল চিকিৎসার ভয়ে রোগীরা পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

আদালত বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থাকতে র‌্যাবকে কেন অভিযান চালাতে হবে। তাহলে অধিদপ্তররের কাজ কী বলেও প্রশ্ন রাখেন আদালত।

গেল ৩ জুলাই চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের চক্ষু শিবিরের অস্ত্রোপচারে ২০ জনের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এই ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্তের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১ এপ্রিল হাইকোর্ট কয়েকটি বিষয়ে রুল দেন। রুলে এই চক্ষু শিবিরের অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত ২০ জনের প্রত্যককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

আজ আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত, সঙ্গে ছিলেন শুভাষ চন্দ্র দাস। অন্যদিকে ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমিনুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রিটটি করেন অমিত দাশ গুপ্ত। এতে বলা হয়, চুয়াডাঙ্গার ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে তিন দিনের চক্ষু শিবিরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ ২৪ জন নারী-পুরুষের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক মোহাম্মদ শাহীন। তবে বাসায় ফিরেই ২০ জন রোগীর চোখে সংক্রমণ দেখা দেয়। এতে তাদের একটি করে চোখ নষ্ট হয়ে যায় এবং চোখ তুলে ফেলতে হয়।

মুকিম // সোমবার , ০৯ জুলাই ২০১৮, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email