ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রী ও সচিবকে মেয়রের চিঠি

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগাহাট ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করায় পণ্য পরিবহনে ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে আইনি জটিলতায় গ্রাহক বা সাধারণ ডিলার বা পাইকাররা চট্টগ্রাম থেকে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমতাবস্থায় চট্টগ্রাম অ লে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রীর সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীবৃন্দের আর্থিক ক্ষতি নিরসনের জন্য মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্কেল ব্যবহার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ১৩টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগীয় সচিব মো. নজরুল ইসলামের কাছে উপনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আজ বিকেলে মেয়র স্বাক্ষরিত চিঠি দুইটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ চিঠিতে মেয়র উল্লেখ করেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনে আপনার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন অ লের ২১টি স্পটে ২৮টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্কেল বসানোর কার্যক্রমকে আমি স্বাগত জানাই। বিগত ১ নভেম্বর ২০১৭ থেকে চট্টগ্রামের বড় দারোগাহাট ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করার কারণে পণ্য পরিরবহনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দুই এক্সেল ৬ চাকা বিশিষ্ট মোটরযানের মাধ্যমে মাত্র ১৩ টনের অদিক কোনো মাল পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। পূর্বে যেখানে এক গাড়িতে ২০/২২টন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হতো সেখানে দুই গাড়িতে করে পণ্য বহন করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি ও অন্যদিকে আইনি জটিলতায় প্রকট যানজটের কারণে গ্রাহক বা সাধারণ ডিলার বা পাইকারগণ চট্টগ্রাম থেকে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। দেশের আর কোথাও এধরণের গাড়ির ওজন পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহারের বিধান কার্যকর না হওয়ায় ঢাকা বা আশেপাাশের শিল্পা ল সমুহের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী স্বাচ্ছন্দ্যে ২০/২২ টন পরিবহন করতে পারছে। যার কারণে একদিকে চট্টগ্রামের পণ্য সামগ্রী বাজার হারাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীবৃন্দ প্রতিনিয়ত অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীনসহ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। অন্যদিকে আমদানি রফতানির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীগণ তাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার না করে অন্য বন্দর ব্যবহারের দিকে ঝুকে পড়ছে। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীগণ আত্মিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম অ লে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রীর সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়ীবৃন্দের আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়টি সুবিবেচনাপূর্বক দেশের অন্যান্য মহাসড়কে পণ্য পরিবহনে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ স্কেল ব্যবহার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২ (দুই) এক্সেল বিশিষ্ট মোটরযানে ১৩টন ওজন পরিবহনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান ।

মুকিম // রবিবার , ১৫ জুলাই ২০১৮,৩১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email