ডিএনসিসির ৮৬ পরিচ্ছন্নকর্মীর সমান কাজ করছে ‘রোড সুইপার’

রাজধানীর রাস্তার ধুলোবালি, আবর্জনা পরিষ্কার করতে নামানো ‍অত্যাধুনিক ‘রোড সুইপার’টি বেশ কাজেই দিচ্ছে। ধুলোবালি থেকে শুরু করে কঠিন বর্জ্য নিমিষেই পরিষ্কার করতে সক্ষম হচ্ছে যন্ত্রটি। প্রযুক্তি নির্ভর এই রোড সুইপার একদিকে যেমন অর্থসাশ্রয় করছে অন্যদিকে রাস্তাও হচ্ছে ঝকঝকে।

একমাত্র রোড সুইপারটি দু’টি রুটে প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত রোড সুইপ করছে। যাতে দিনে গড়ে রাস্তা পরিষ্কার হচ্ছে ১৮ কিলোমিটার। অত্যাধুনিক এই যন্ত্র রাস্তায় নামানোর পর পরিকল্পনা ছিলো ভালো ফলাফল দিলে ভবিষ্যতে পুরো উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সিংহভাগ এ যন্ত্রের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে রাজধানীতে গুণগত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যেতেই হবে। রোড সুইপারটি ভালো ফল দিচ্ছে। এই রোড সুইপার ‘ইকোনমিক্যাল’ এবং কার্যকরী। যা শলার ঝাড়ু দিয়েও পরিষ্কার করা যায় না, সেখানে এই রোড সুইপার অনেক বেশি কার্যকর।

গত ৫ মার্চ রাজধানীর দু’টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে রোড সুইপারটি নামানো হয়। চালুর পর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৩ দিনে ৩৯৩ ঘণ্টা রাস্তা সুইপ করে এক হাজার ২৭৯ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করেছে যন্ত্রটি। এই সময় যন্ত্রটি দু’টি রুট থেকে ৩ লাখ ২১ হাজার কিলোগ্রাম বর্জ্য অপসারণ করেছে। অত্যাধুনিক রোড সুইপারটি বর্তমানে ঘণ্টায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করছে। ধূলার তীব্রতা কম থাকলে এর স্পিড ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার। তবে ঢাকার বাস্তবতায় ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটারের বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিসংখ্যান বলছে, যন্ত্রটি প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৮৬৩ কিলোগ্রাম বর্জ্য অপসারণ করছে। এই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করতে একদিন ৮৬ জন পরিচ্ছন্নকর্মীর প্রয়োজন হতো। শুধু তাই নয়, রাস্তা পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দুর্ঘটনার শিকার হতেন, রোড সুইপারের কল্যাণে সেটি থেকেও রক্ষা পেয়েছেন কর্মীরা।

রোড সুইপারটি দেখতে অনেকটা কাভার্ডভ্যানের মতো। এর ইঞ্জিন দুই ভাগে বিভক্ত। একটির কাজ পথ মাড়ানো। অন্যটির কাজ রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া। সুইপার যন্ত্রটির সামনের দিকে রয়েছে দু’টি সাকশন (শোষণ) পাইপ। প্রতিটি পাইপ একসঙ্গে দেড় ফুট ব্যাসের জায়গার ময়লা-আবর্জনা শুষে নিতে পারে। যন্ত্রটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার ময়লা সাকশন পাইপের মাধ্যমে ওপরে অবস্থিত গার্বেজ ট্যাঙ্কারে জমা হয়। আরেকটি ইঞ্জিনের মধ্যমে গাড়িটি ধীরে ধীরে চলার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার সব ময়লা-আবর্জনা শুষে ট্যাঙ্কে নিয়ে যাবে। ট্যাঙ্কে ছয় টন বর্জ্য ধারণ করতে পারে। এছাড়া একটি পৃথক পানির ট্যাঙ্কও রয়েছে। প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক থেকে পৃথক পাইপের মাধ্যমে রাস্তায় পানি ছিটিয়েও রাস্তা পরিষ্কার করা যাবে। বর্তমানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা যন্ত্রটি চালানো হচ্ছে।

আপাতত মানিক মিয়া এভিনিউ, খেজুরবাগান, ক্রিসেন্ট লেক, বিজয় সরণি, ইন্দিরা রোড, গণভবন, সংসদ ভবনের আশপাশে পরিচ্ছন্নতার কাজে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

উন্নতমানের এ রোড সুইপারটির চ্যাসিস জাপানের হিনো কোম্পানির। আর সুইপার মেশিনটি ব্রিটেনের বিখ্যাত জনস্টন কোম্পানির। তারা তিন বছরের গ্যারান্টি দিয়েছে। এটির দাম চার কোটি ৯৫ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডের একটি টেকনিক্যাল টিম যন্ত্রটি পরিচালনার জন্য তিনজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ রাখতে পারলে যন্ত্রটি ১০ থেকে ১২ বছর কাজ করতে সক্ষম হবে।

মুকিম // সোমবার , ০৯ জুলাই ২০১৮, ২৫ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email