জ্যাকসন ফাইভ থেকে কিং অব পপ

নাবিলা ইবনাদ

দে ডোন্ট কেয়ার এবাউট আস, আর্থ সং, ইউ আর নট এলন, বিট ইট, হিল দ্যা ওয়াল্ড ইত্যাদি জনপ্রিয় ও দর্শক নন্দিত গানের শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের প্রয়াণ দিবস আজ।

‘কিং অব পপ’ খ্যাত মাইকেল জ্যাকসনের পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট আফ্রো-আমেরিকান এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম তার। দারিদ্রতার জন্যে কপিকল অপারেটর হিসেবে কারখানায় কাজ করেছেন তিনি।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার তার সঙ্গীতজীবন শুরু হয় পারিবারিক ভাবে “জ্যাকসন ফাইভ” নামের ব্যান্ড দলের সদস্য হিসেবে। আর মাত্র ১৩ বছর বয়সে একক শিল্পী হিসেবে মাইকেল জ্যাকসনের সংগীত জগতে পদচারণা শুরু হয়।

মাইকেল জ্যাকসন। ফাইল ছবি

১৯৮৮ সালে বের হয় মুনওয়াকার তবে তিনি অভিনেতা হিসেবে পরিচিত হন “মেন ইন ব্ল্যাক টু” দিয়ে। তার গাওয়া “বিট ইট” গানটি আজো শ্রোতাদের কাছে দারুন জনপ্রিয়। আশির দশকে মাইকেল সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌছান। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী যিনি এমটিভিতে এতো জনপ্রিয়তা পান। বলা হয়, তার গাওয়া গানের ভিডিওর মাধ্যমেই এমটিভির প্রসার ঘটেছিলো।

এওয়ার্ড হাতে হাস্যোজ্জ্বল মাইকেল জ্যাকসন। ফাইল ছবি

গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রোবোট, ও মুনওয়াক (চাঁদে হাঁটা) রয়েছে। মুনওয়াক আসলে হলো সামনের দিকে হাঁটার দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করে পিছনে যাবার ভঙ্গিমা। তিনি পপ সংগীত এবং মিউজিক ভিডিওর ধারণা পাল্টে দেন। এখন সারাবিশ্বের সকল নৃত্যশিল্পীরা মাইকেল জ্যাকসনকে প্রায়ই শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন।

মাইকেল জ্যাকসন দু’বার রক অ্যান্ড রোল হল অফ ফেইমে নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যিনি গান লেখক,নাচের (সর্বপ্রথম এবং একমাত্র),”আর এন বি” হল অফ ফেইমে জায়গা করে নিয়েছেন। সঙ্গীত জগতের কেউ এত ক্যাটাগরিতে হল অফ ফেইমে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেনি। ১৩টি সেরা একক সঙ্গীত, ১৩টি গ্রামী এওয়ার্ড, এবং ৭৫ কোটি এলবাম বিক্রির রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে।

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন । ছবি সংগৃহীত

এছাড়াও গিনেস বুক অফ ওয়ার্লড তাকে বিশ্বরেকর্ড এ ভূষিত করেছে বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি দান করবার জন্যে, এবং তার দানকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এর ও বেশি। পরিবেশ রক্ষায় গেয়েছেন “আর্থ সং।” জীবদ্দশায় নিজের অর্থায়নে স্থাপন করেন লিউকেমিয়া ও ক্যানসার ইনস্টিটিউট। ১৯৯৬ সালে তার আয়ের অর্থ দিয়ে প্রায় আড়াইলক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়কে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ তোলা হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০০০’এর পর কয়েকবছরের জন্য নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নেন জ্যাকসন।

হীরকখচিত বিখ্যাত দস্তানা হাতে মাইকেল জ্যাকসন।

অবিশ্বাস্য সহজাত প্রতিভা ও উদ্ভট ব্যবহারের এক মিশ্রণ হিসেবে ভক্ত-সমালোচকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন মাইকেল জ্যাকসন। আর এই বিরল মিশ্রণের কারণেই মাইকেল জ্যাকসনকে ঘিরে তৈরী হয়েছে গণমাধ্যম, সাধারণ মানুষ ও সমালোচকদের ব্যাপক আগ্রহ, যা তাঁকে সমসাময়িক অন্যান্য তারকাদের তুলনায় আলাদা একটি ভাবমূর্তি এনে দিয়েছে।

জীবনের শেষদিকে তাঁর চামড়া ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। সঙ্কুচিত হয়ে যেতে থাকে তাঁর নাকও। পৃথিবীর মায়াও ছিল তার। নিজের ক্লোন তৈরি করে অমর হতে চেয়েছিলেন তিনি। লাখ লাখ ডলার খরচ করেছেন এর জন্য। ঘুমাতেন অক্সিজেন পূর্ণ কক্ষে। তিনি দাবি করেছিলেন অক্সিজেন চেম্বারে ঘুমানোর জন্য অন্তত ১৫০ বছর বাঁচবেন তিনি।

মাইকেল জ্যাকসন। ফাইল ছবি

রহস্যজনক ভাবে মাত্র ৫০ বছর বয়সেই মারা যান “কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসন”। ২০০৯ সালের ২৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন অদ্বিতীয় এই তারকা। তার মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানান জল্পনা- কল্পনা। বলাহয় ব্যক্তিগত ডাক্তারের উপস্থিতিতে তারই দেওয়া ঘুমের ঔষধের ওভার ডোজের কারনে মৃত্যু হয় জ্যাকসনের। আরো কথিত আছে, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ঔষধ সেবনের কারনে হার্ট এট্যাক করে মারা যান মাইকেল জ্যাকসন।

মাইকেল জ্যাকসনের মতো এরকম প্রতিভাবান মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসে। মৃত্যু বার্ষিকীতে এই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান অসংখ্য মানুষ।

নাগরিকনিউজ/নীল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email