জোয়ার ভাটার ফাঁদে বন্ধী কলাপাড়ায় সাত গ্রামের মানুষ-চাষাবাদ বিপর্যয়

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়ায় জোয়ার-ভাটার ফাঁদে বন্ধী হয়ে পানিতে ভাসছে সাত গ্রামের মানুষ। এক সপ্তাহ ধরে রাবনাবাদ নদের দু’দফা জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে সহস্রাধিক পরিবার। বিধ্বন্ত বেড়িবাঁধের ভাংগা অংশ দিয়ে প্রবলস্রোতের সাথে পানি প্রবেশ করায় মানুষ এখন হয়ে পড়েছে জোয়ার ভাটার উপড় নির্ভরশীল। এসব এলাকায় এখন দেখা দিয়েছে চাষাবাদ বিপর্যয়। মানুষের জীবন-জীবিকার শংকা। বর্তমানে এ ইউনিয়নে চলছে নির্বাচন। বানভাষী এসব এলাকার প্রায় তিন হাজারের মানুষের কাছে নির্বাচন এখন নিরুত্তাপ।

সরোজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মুন্সীপাড়া, নয়াকাটা, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং গ্রামে জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ করছে। জোয়ারের সময় বাড়িঘরে থাকা তো দুরের কথা, চলাচলের রাস্তা পর্যন্ত ডুবে যায়। অনেকেই চলচলের জন্য নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করছে। বিন্তীর্ন ফষলের মাঠ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের ভাটার জন্য অপেক্ষ করতে হয়। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ওই এলাকার শতভাগ কাঁচা-পাকা সড়ক।

স্থানীয়রা জানায়, সিডরের সময় রাবনাবাদ পাড়ের এই বেরিবাঁধটি বিধ্বস্ত হয়। জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও ফি’বছর আবার তা ভাংগছে। বিগত বছর বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি পুনরায় বিধ্বস্ত হয়। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শের-ই বাংলা নৌ-ঘাঁটির জন্য ওই এলাকার অধিকাংশ জমি অধিগ্রহণের আওতায় থাকায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধটি মেরামতের কাজ করছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গৃহবধূ মাহমুদা জানান, জোয়ারের পানিতে বাড়িঘরসহ রান্নার চুলা পর্যন্ত ডুবে গেছে। জোয়ারের সময় ঘরে বন্দী থাকতে হয়। আর ভাটায় কাদাপানি পেড়িয়ে চলাচল করতে হয়। বাবুল শিকদার জানান, প্রতিদিন দু’দফা জোয়ারে গ্রামের পর গ্রাম পানি বন্দী হয়ে পড়ছে। মানুষের দূর্ভোগের শেষ নাই। তাদের কাছে চলমান নির্বাচনী উত্তাপ এখন বিবর্ন হয়ে গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মীর তারেকুরজ্জামান তারা জানান, জনগনের দূর্ভোগ লাগবে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের সাংবাদিকদের জানান, রাবনাবাদ পাড়ের অধিকাংশ জমি পায়রা পোর্টসহ নৌ-ঘাটির জন্য অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মুকিম // বুধবার, ০৪ জুলাই ২০১৮, ২০ আষাঢ় ১৪২৫, ১৯ শাওয়াল ১৪৩৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email