জনবল সংকটে গাজীপুরের সাতখামাইর রেল ষ্টেশন বন্ধ

মুহাম্মদ আতিকুর রহমান (আতিক), গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি: জনবল সংকটের কারন দেখিয়ে এবার বন্ধ করা হল গাজীপুরের শ্রীপুরে সাতখামাইর রেলষ্টেশন। ইতিপূর্বে একই অজুহাতের কারনে বন্ধ করা হয়েছিল ইজ্জতপুর রেল ষ্টেশন। গত ৭ জুলাই সাতখামাইর রেল ষ্টেশন মাষ্টারকে একই উপজেলার রাজেন্দ্রপুরে বদলী করা হলে ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হঠাৎ করে জনারণ্য ষ্টেশন এলাকাটি এখন নির্জীব এলাকায় পরিনত হয়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য মতে, উনিশ শতকের চল্লিশের দশকে তদানিন্তন ব্রিটিশ শাসকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলসড়ক নির্মাণ করেন। এই সড়কের শ্রীপুর রেল ষ্টেশন থেকে ৪ কিলোমিটার দুরুত্বে সাতখামাইর বাজার সংলগ্ন স্থানে সাতখামাইর রেলষ্টেশন চালু করা হয়। অতীত সময়ে সকল লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতি এই ষ্টেশনে থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনা হয়। সর্বশেষ আপ এবং ডাউনে দুটি ট্রেন এই ষ্টেশনে যাত্রবিরতি করত। ষ্টেশনটি চালুর জন্য তিনজন ষ্টেশন মাষ্টার থাকার নিয়ম থাকার পরও দীর্ঘদিন যাবৎ কমর্রত ছিল একজন স্থায়ী ও একজন চুক্তিভিক্তিক ষ্টেশন মাষ্টার। সর্বশেষ চুক্তিভিক্তিক ষ্টেশন মাষ্টারের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হওয়ায় দায়িত্বভার পরে একজনের উপর, কিন্তু একজনের পক্ষে একটি ষ্টেশন চালানো সম্ভব না হওয়ায় ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে মাষ্টারকে রাজেন্দ্রপুরে বদলী করে কর্তৃপক্ষ। যদিও গত দুইবছর আগে অন্যান্য ষ্টেশনের ন্যায় সাতখামাইর রেল ষ্টেশনটিও কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ডিজিটাল করা হয়েছিল। এখন ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করার ফলে দামী মূল্যবান যন্ত্রপাতিও তালাবদ্ধ ঘরে বন্দি হয়ে রয়েছে।

১৬ জুলাই সোমবার দুপুরে সরেজমিন রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় একসময়ের লোকরণ্য এই ষ্টেশনের অধিকাংশ জায়গা এখন নির্জীব অবস্থায়। অনেকসময় ধরে খোঁজাখোঁজি করে ষ্টেশনের বন্ধ দরজার কক্ষে দেখা মিলল পয়েন্টম্যান আলাউদ্দিনের। তিনি জানালেন এক সপ্তাহ হল মাষ্টারের অভাবে ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে, মাষ্টার না থাকার পরও এখনও তাকে ছাড়া আরো দু”জন সিগন্যাল ম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্মরত আছেন। দামী দামী যন্ত্রপাতি রয়েছে এখানে, এছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের কাজ। তাই তাঁরা পালাক্রমে দায়িত্বপালন করছেন। তবে তাঁদের দাবী মাষ্টারের ব্যবস্থা হলেই আবার হয়ত প্রাণ ফিরে পাবে ষ্টেশনটি।

সম্প্রতি সাতখামাইর রেলষ্টেশন থেকে রাজেন্দ্রপুরে বদলী হওয়া ষ্টেশন মাষ্টার ফরিদ মিয়া জানান, এই ষ্টেশনটি বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন আপ-ডাউনে বলাকা এক্সপ্রেস ও ভাওয়াল এক্সপ্রেস এখানে যাত্রা বিরতি করত, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন শতাধিক যাত্রী ট্রেনের যাত্রী হিসেবে চলাচল করত। টিকেট বিক্রি থেকেও ভাল আয় হত। যাত্রীদের দুর্ভোগ হওয়া সত্বেও ষ্টেশন মাষ্টারের অভাবেই মূলত ষ্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই রেলষ্টেশন ঘিরে এখানে ঘরে উঠেছে প্রায় শতাধিক ছোট মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধের ফলে ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছে হতাশার ছাপ তেমনি এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, তাঁর ভাষ্য এই ষ্টেশন এলাকাটি ছিল জনারণ্য এলাকা, শত শত লোকজনের সমাহার থাকত দিন রাতের অধিকাংশ সময়, আমাদের ব্যবসাও ভাল হত। কিন্তু এখন ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করায় জনশূণ্য হয়ে পড়েছে এই এলাকাটি। ব্যবসা বানিজ্যের ধস যে নামছে আমরা এখন বুজতে পারছি। ষ্টেশনের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার সাথে হয়ত আমাদের ব্যবসাও গুটিয়ে নিতে হবে।

ভাওয়াল বদরে আলম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, এই ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এখন আমরা যারা এই ষ্টেশন ব্যবহার করতাম তাঁরা ৩০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে শ্রীপুর গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। এতে সময় ও অর্থের ব্যায় বেড়ে গেছে। আর ষ্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর সরকারও টিকেট বিক্রির আয় থেকে বি ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, গত ৬ জুলাই একসাথে চুক্তিভিক্তিক ১১জন ষ্টেশন মাষ্টারের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ষ্টেশন মাষ্টারের অভাবে এই ষ্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে চুক্তিভিক্তিক মাষ্টারদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী দেড় দু’মাসের মধ্যে ষ্টেশনটি পুনরায় চালু করা যাবে।

মুকিম // বুধবার ,১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email