চোর আতঙ্কে কুয়াকাটাবাসীর নির্ঘুম রাত – পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাবের শংকা

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥ পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আশংকাজনক হারে বেড়ে গিয়েছে চোরের উপদ্রব। গত পনেরদিনে অন্তত দশটি বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী প্রতিষ্ঠানে চোরের দল হানা দিয়েছে। সুযোগ বুঝে চোরের দল ডাকাতির মত ঘটনাও ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। অহরহ চুরির এমন ঘটনায় চোর আতঙ্কে কুয়াকাটার মানুষের এখন রাত কাটে নির্ঘুম। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চুরির আতংক।

চুরির শিকার ক্ষতিগ্রস্থদের ধারনা, স্থানীয় সিন্ডিকেটের সাথে সখ্যতা গড়ে টার্গেট তৈরি একটি চোরচক্র এই চুরি সংগঠিত করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশি টহল তৎপরতা কম থাকায় ঘটছে এমন আহরহ চুরির ঘটনা। পর্যটন সংশ্লিস্ট ব্যবসায়ীদের ধারনা, এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১১ জুলাই রাতে তালা ভেঙে কুয়াকাটা পৌরশহরের নবীনপুরে রেদওয়ানুল ইসলাম রাসেলের বাসা ও আলমিরার একাধিক তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে । ২৬ জুলাই রাতে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির লাগোয়া এলজিইডির গেস্টহাউস চয়ন-এ হানা দেয় দুর্ধষ চোরের দল। এসময় কেয়ারটেকার মোশারেফেকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে দুইটি মোবাইল ফোন, এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ছয় হাজার টাকা নিয়ে যায়। বর্তমানে সে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

২৫ জুলাই রাতে কুয়াকাটা সদর রোডের পল্লী চিকিৎসক শাহনেওয়াজের ফার্মেসী থেকে চুরি হয়েছে নগদ ৪০ হাজার টাকা। কুয়াকাটা পাঞ্জুপাড়ার মজিবর রহমান হাওলাদারের বাসা থেকে চুরি হয়েছে নগদ ২০ হাজার টাকা। একই এলাকার জামাল হোসেনের মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০ হাজার টাকা এবং গফুর খানের ১০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও চোরের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কুয়াকাটার নেছার, মম্বিপাড়ার সুকেশ, সুকদেভ, প্রিয়নাথ ও নারায়ন ডাক্তার। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বেড়িবাঁধের বাইরে জলিল মীরের বাসায় হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। জলিল মীরের স্ত্রী রাতে ঘরের বাইরে বের হতেই পেছন থেকে আকস্মিক মুখে কাপড় বেঁধে ফেলা হয়। আশেপাশের লোকজন টের পেলে সটকে পড়ে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও চুরি হয়েছে কুয়াকাটা লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা।

সম্প্রতি কুয়াকাটা লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনা বাসা থেকে ৭০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। এ নিয়ে মহিপুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে উল্টো ধমক দিয়েছেন বলে জানান এ ভ’ক্তোভোগী।

ব্যবসায়ীরা রাতে দোকানে তালা দিয়ে বাসায় যাবে, নাকি দোকান পাহারা দিবে এমন দ্বিধায় কাটছে তাদের দিনরাত। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য, খোয়া যাওয়া চুরির মাল উদ্ধারে থানায় গেলে আরও গচ্চা যাবে! তাদের অভিযোগ, উল্টো পুলিশ হয়রানির শংকায় তারা থানা পুলিশের কাছে যেতে ভরসা পাননা।

অবশ্য মহিপুর থানা পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কারও কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা ছাড়াই খোঁজখবর নেওয়া হয়। প্রয়োজনে মামলা নিয়ে থাকি। চোর ধরে আদালতে পাঠানো হয়। ওই চোর জামিন নিয়ে কখন বের হয় তা আমাদের জানা থাকেনা। গত পনেরদিনে কুয়াকাটায় চুরির বিষয়ে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email