চলতি বছরে তাপমাত্রা বিরল ভাবে বাড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুর্ভাগ্যবশত চলতি বছরেই পৃথিবীর উষ্ণতা প্রচণ্ডভাবে বাড়বে। বিশ্বের কিছু অংশ এই তাপমাত্রা অন্যদের চেয়ে বেশি অনুভব করবে এবং আগামী বছরগুলিতেও তার পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়েও এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমাগত বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা চলতি বছরেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞানীরা ‘প্রায় নিশ্চিত’ হয়েছেন। আর চলতি বছরের গড় তাপমাত্রা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণায়নের বছর হিসেবে রেকর্ড হতে চলেছে গড় তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও)

গবেষকরা বলেছেন, পৃথিবীর গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ১৮৫০ দশকের তুলনায় ইতোমধ্যে ১ সেন্টের বেশি ছিল। পরবর্তী পাঁচ বছর এই স্তরটি প্রায় একইরকম থাকবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) যুক্তরাজ্যের মেট অফিস দ্বারা পরিচালিত নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাপমাত্রার এই স্তরটি লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা আরও ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধির জন্য আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে আরও বেশি ঝড় উঠবে।

চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া পৃথিবীব্যাপী মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চরম আবহাওয়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।

জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বের জন্য হুমকি। এতে একদিকে যেমন খাবার পানির অভাব দেখা দেবে, অপরদিকে পানিবন্দি হবে মানুষ। এছাড়া খরা, বন্যা ও নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়তে হবে

বৈশ্বিক তাপমাত্রার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মানবসৃষ্ট বেশ কিছু কর্মকাণ্ড সরাসরি দায়ী বলে মনে করছে ডাব্লিউএমও। যেমন গাড়ির ধোঁয়া, বন উজারকরণ, কয়লা পোড়ানোর মতো ঘটনা। রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে চলতি দশকে প্রাণ-প্রতিবেশেও বেশ প্রভাব পড়েছে

প্রকৃতির পরিবর্তনশীলতার পাশাপাশি মানুষের ক্রিয়াকলাপ থেকে কার্বন নিঃসরণের প্রভাব এবং করোনা মহামারিকালীন কার্বন নিঃসরণ কমে আসার উপর নির্ভর করে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বিবেচনা করা হবে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, ২০২০ সালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। এ সংস্থা জোর দিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ সময়ে শিল্প ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দিয়েছে।

নাগরিক নিউজ / নাসরিন আক্তার এ্যানি..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email