চট্টগ্রাম সদর রেজিষ্ট্রার কমপ্লেক্স এক বেলায় খাওয়ার বিল ৬৫ হাজার টাকা

সদর রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স অফিস এখন ঘুষ বাণিজ্যে ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছে। জমি, বায়নামা, হেবা, অছিয়ত নামা, পাওয়ার এটর্নি নামে দলিল তৈরী করণ অংশ নামা, চুক্তি নামা, ঘোষনা পত্র, পুরাতন দালান পৈত্রিক সম্পত্তির উপর নির্মিত দালান গৃহ নির্মাণ ফ্ল্যাট বাড়ি হিসাবে উল্লেখ করিয়া নানা রকম টেক্স আদায় করার নামে অবৈধ ভাবে ঘুষ গ্রহণ যার পরিমান ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ পর্যন্ত মোটা অংকের বিনিময়ে হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘুষ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগি করে নেন ৬/৭ জনের একটি সিন্ডিকেট। অতিষ্ঠ ও হয়রানি স্বীকার হয়ে পড়েছে রেজিস্ট্রারি অফিসে আসা জমি ক্রেতা বিক্রেতারা। চুক্তির মাধ্যেমে জমি রেজিষ্ট্রির নামে ২/৩ লক্ষ টাকা সাব-কবলা প্রতি দলিলে লাখে ১০০০/- টাকা, হেবা পাওয়ার অছিয়ত অংশনামা প্রতি দলিলে বিশ থেকে সত্তর হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় সদর রেজিস্ট্রারি অফিসের মূল হোতা সহকারীএরাদুল হক ভুট্টো। সদর রেজিষ্ট্রারি অফিসের এরাদুল হক ভুট্টোর নাম শুনলে চমকে উঠেন জমির মালিকগণ। যেমন ট্রাকের পিছনে লিখা আছে ১০০ হাত দূরে থাকুন, ঠিক তদ্রুপ রেজিষ্ট্রারি অফিস আসা জমির মালিকগণ ক্রতা-বিক্রেতা ১০০০ গজ দূরে থাকার চেষ্টা করেন। তারপরে জিম্মি হয়ে পড়েন সহকারীর জালে।

মোটা অংকের ঘুষর ফাদ ফানা করে পার পাওয়া দুঃসাধ্যকর। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর আবীরভাব ঘটে এরাদুল হক ভুট্টোর। একি অফিসে বিগত ৮/৯ বছর ঘুষ বাণিজ্যের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই সহকারীর বিরুদ্ধে গত বছর একাধিক অভিযোগ উঠে দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে ঘুষ দূর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে (স্ট্যন্ড রিলিজ) সকালে বদলির আদেশ আসলে বিকালে তা উধাও হয়ে যায়। বহাল তবিয়তে নিশ্চিন্তে চালিয়ে যাচ্ছে তার ঘুষ দূর্নীতির যত সব অপকর্ম। আর অন্যদিকে ভোগান্তিতে ভুগছে কাজে আসা সাধারণরা। মুখ খোলার কোন উপায় নেই। তাহলে যে, রেজিষ্ট্রারি করা আট কেযাবে। নিত্য দিন হয় রানি হওয়ার ভয়ে মুখখুলতে চাইছেনা জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। ঘুষ বাণিজ্যের ভাগ ভাটোরা নিয়ে অভিযোগ উঠছে ৬/৭ জনের সিন্ডিকেটের মধ্যেও সমপৃক্ততা রয়েছে চান্দগাঁও সাব রেজেষ্ট্রারি অফিসের সহকারী বাহার উদ্দীন, পাহাড়তলী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের অমৃত লাল এবং দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সাধরণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে ফোনে পাওয়া যায়নি। জানা যায় সমিতির ১০/১১ সদস্য নিয়ে চিকিৎসা ও সফরে ভারতে অবস্থান করছেন। নাম প্রকাশনা করার শর্তে রেজিষ্ট্রারি অফিসের এক কর্মচারী জানান গোটা অফিস এখন জিম্মি হয়ে আছে এরাদুল হক ভুট্টোর কাছে। তার ইশারায় চলে সবকিছু, কর্মচারীরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননা। প্রতিবাদ করার কারো সাহস নাই। উপুরোক্ত কর্মকর্তারা সব কিছু জেনে ও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে ও অভিযোগ উঠছে। এরাদুল হক ভুট্টো প্রকাশ্যে নাকি বলে থাকেন, আমার বাড়ি মিরশ্বরাই মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন যতক্ষণ আছে আমিও এই অফিসে বহালতবিয়তে থাকব। এক চুল পরিমাণ নাড়ানোর কারো ক্ষমতানাই। আমি এই অফিসে যা ঘুষ খাই একা খাইনা উপরের সব বাবুদের ভাগ দিয়ে খাই।

এরাদুল হক ভুট্টো সহকারী হয়েও তার নিজেস্ব ২৬ লাখ টাকার দামের প্রাইভেট কার চড়ে অফিসে যাতায়াত করেন এবং স্ত্রীর জন্য ও রয়েছে আলাদা আরেকটি প্রাইভেট কার। থাকেন চট্টগ্রাম শহরে অভিজাত এলাকায় ৩০ হাজার টাকায় ভাড়ায় ফ্লাটে। ড্রাইভার বেতন ১৫ হাজার টাকা। গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তি। আইনজীবী দোয়েল ভবনে স্ত্রীর নামে ২১ নং দোকান, ফিরোজশাহ কলোনীতে ২টি প্লট,বিশ্ব কলোনীতে ২টি প্লট রয়েছে। মিরশ্বরাইতে তার স্ত্রীর নামে ২ একর জায়গাও পৈারসভা মার্কেটে কয়েকটি দোকান রয়েছে। মিরশ্বরাই ভূমি অফিসে খোজনিলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এরাদুল হক ভূট্টোর প্রতিদিন পকেটে ৫০ হাজার টাকা না ঢুকলেই মাথা গরম থাকে, মাসে ১৫ লক্ষ টাকা ইনকাম থাকতে হবে। গত ১১ মার্চ দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকায় “চট্টগ্রাম সদর রেজিষ্ট্রার কমপ্লেক্স ঘুষ বানিজ্য ”শিরোনমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তার পর পরি ১৪ মার্চ আইন সচিব সদর রেজিষ্ট্রার অফিসে আসেন বাহির থেকে বুঝার কোন উপায় নেই। আগের মত করেই অফিস কার্যক্রম ঘুষবানিজ্যের লেনদেন চালিয়ে কাজকর্ম চলছে। চট্টগ্রাম সদর রেজিষ্ট্রার কমপ্লেক্সে দুপুরের দশ জন খাওয়ার বিল ৬৫ হাজারটাকা। চোখ যে কোপালে উঠলো মাথা ছুতে গিয়ে আকাশ মাথার উপর। গত ১৪ মার্চ আইন সচিব সদর রেজিষ্ট্রার কমপ্লেক্সে আসেন, কি কারণে আসলেন তা অতি গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

দুপুরের খাওয়া পাঁচ তারকা হোটেলে রেডিসন ব্লু থেকে নিয়ে আসা হলো। আইন সচিবের খাওয়ার টেবিলে দশ জনের তালিকায় দলিল লেখক সমিতির দুই সদস্য আলী নেওয়াজ সহ ছিলেন। এই খাওয়ার বিল ৬৫ হাজার টাকা কোন ক্ষাত থেকে পরিশোধ করা হলো কেউ জানেনা। তাবে অফিস স্টাফদের দৃষ্টি অফিস সহকারী এরাদুল হক ভূট্টোর দিকে। ঘুষ বানিজ্যের হোতা যখন এরাদুল হক ভূট্টো তার অপরাধ ঢাকতেই খাওয়ার বিল পরিশোধ করতে পারেন বলে মনে করেন। অফিসের ভেতরে পিভিসি প্লাস্টিক ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখারয়েছে “আমি ও আমার প্রতিষ্টান দূর্নীতি মুক্ত” লেখাটার বিষয় জমি ক্রেতা বিক্রেতারা জানতে চাইলে নাকি এরাদুল হক ভূট্টো উল্টা জবাব দেন সরকার বলেছে তাই করেছি ওঠা দিয়ে ভাত জুটেনা কোন কাজ কর্ম আগাবেনা।

১৪ মার্চ প্রতিনিধি রেজিষ্ট্রার অফিসের সামনে দাঁড়ালে দেখতে পান রেজিষ্ট্রারী করতে আসা জমি ক্রেতা বিক্রেতারা একে অপরকে বলাবলি করছে রসিক তার সাথে ব্যানারে লেখা আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান দূর্নীতি মুক্ত না লেখে দূর্নীতি যুক্ত লেখলে কেমন হয়।

সূত্র মতে জানা যায় আইন মন্ত্রনালয় কতৃক গ্রেজেড প্রকাশিত রেজিষ্ট্রারী অফিস কর্ম ঘন্টা সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত কিন্তু রাত ৯টা পর্যন্ত অফিস খোলা থাকে। এসব দূর্নীতি এখন ওপেনসিক্রেট হয়ে পড়েছে।

বিশস্ত সূত্রে জানাযায় এরাদুল হক ভুট্টোর মামা এনামুল হক বর্তমান অবসরপ্রাপ্ত তৎকালিন সহকারী পদে থাকা কালীন এরাদুল হক ভুট্টোকে- এক্সট্রাম হোরা পদে চাকুরীপাইয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে প্রভাব খাটিয়ে টিসিম হোরা পদে পদন্নোতি নেন। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে তৎক্ষনিক সময়ে ক্ষমতা প্রয়োগ করে সহকারী পদ ভাগিয়ে নেন। বর্তমানে সহকারী পদে বহাল তবিয়তে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email