চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা

চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্টান মালা ও আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল পালন করেছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এদিনটি মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্বলাভ ও মহাপরিনির্বাণ এর ত্রি-স্মৃতি বিজরিত ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। তাই প্রতি বারের মত এবার ও এ উৎসবটি পালনের জন্য ধর্মীয় পরিবেশে গুরুগাম্ভীর্য নিয়ে বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের লোকজনের ঢল নামে নগরীর নন্দকানন বৌদ্ধ বিহারে। এদিন হাজার হাজার নারী পূরুষ শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত ভোর থেকে ভীড় জমায় বিহার প্রাঙ্গনে। বিহার প্রাঙ্গনে পূর্ণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভীড় যেন এক মহা মিলন মেলায় পরিণত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৭ টায় শান্তি শোভাযাত্রা, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, প শীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ধর্মীয় আলোচনা সভা।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টা বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির উদ্যোগে নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধবিহার থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিবিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করেন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।

শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন অংশ নেয়। এরমধ্যে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বৌদ্ধ সমিতি (যুব), বৌদ্ধ সমিতি (মহিলা), বাংলাদেশ বুডিস্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, বুডিস্ট ইয়ুথ ফেস্টিভাল গ্রুপ, অর্হৎ বনভান্তে সদ্ধর্ম উন্নয়ন উপাসক-উপাসিকা পরিষদ, কন্হক বুডিস্ট ইউনিটি, ত্রিরতœ সংঘ উল্লেখযোগ্য।

‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’, ‘অহিংসা পরম ধর্ম’, ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’, ‘মিত্রতার দ্বারা শত্রুকে জয় করা যায়’ এরূপ লেখা সম্বলিত ফেস্টুন হাতে শোভাযাত্রায় হাজারো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নিয়েছেন।
এছাড়াও নগরীর কাতালগঞ্জ বৌদ্ধবিহার, দেবপাহাড় পূর্ণাচার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারসহ সকল বৌদ্ধবিহারে নানান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুদ্ধ পূর্ণিমার অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল অষ্টবিংশতি বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিন্ডদান, ভৈষজ্য দান। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সূত্রপাঠ ও একক সদ্ধর্মদেশনা। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের উপ-সংঘরাজ ড.জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে এতে একক সদ্ধর্মদেশনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জাপানের আইটি গাক্কুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিজিটিং অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক, লেখক, গবেষক ড. জ্ঞানরত মহাস্থবির।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের শুভ জš§দিন, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধপূর্ণিমা। বিশ্বের সব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।

বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জš§, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’। এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনারত থাকেন। ভক্তরা প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দির সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এ ছাড়া বৌদ্ধরা এই দিনে বুদ্ধপূজার পাশাপাশি প শীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেদ প্রার্থনাও করে থাকেন।

ধমীয় উৎসবে আসা পূজারী কাকলী বড়–য়া জানান আজ মহামতি গৌতম বৌদ্ধের শুভ জন্মদিন। তাই এদিনটি আমাদের কাছে বিশেষ স্বরণীয়। বিভিন্ন মনোভাসনা নিয়ে বিহারে এসেছি পূজা দিতে। মহামতির শুভ জন্মলগ্নের এদিনে সারা বছরের পাপ পূণ্য মুছে ফেলে নতুন করে পূন্যপথে চলার এবং মঙ্গল জীবন কামণার প্রার্থনা করতে এসেছি। তিনি আরো বলেন পূন্যবান হওয়ার আশায় বিহারে সকাল থেকে অন্তত লক্ষাধিক বৌদ্ধ সম্প্রাদয়ের পূজারীরা হাজির হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email