চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আহলে সুন্নাতের সংবাদ সম্মেলন – চকরিয়া ও বরিশালে   মাজারের খাদেম- ইমাম কে নির্যাতন কারীদের শাস্তির দাবি

 

 হোসেন বাবলা:১৯মে

চকরিয়ায় মাজারের খাদেম ও তাঁর সন্তানদের পিটিয়ে জখম করার পর তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, বরিশালে মাদ্রাসার সুপার ও মসজিদের ইমামের মাথায় মল ঢেলে অপমানের প্রতিবাদে এবং উভয় ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের শাস্তির দাবিতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটি  ১৯ মে’ শনিবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আহলে সুন্নাত সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতেয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মুসলিম সমাজের পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের উপর কিছু প্রভাবশালী মহলের নির্মমতা ও অত্যাচারের বিচার না হওয়ায় দিন দিন সন্ত্রাসীদের ঔদ্ধত্য বেড়েই চলছে।

আলেম সমাজ-শিক্ষক সমাজ কেউ সন্ত্রাসীদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সম্প্রতি কক্সবাজার চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান এবং তার পালিত গুন্ডা-মাস্তানদের জুলুমের শিকার হয়েছেন স্থানীয় শাহ সূফী দরবারের ৯২ বছর বয়ষ্ক খাদেম ফয়েজ আহমদ ফকির এবং তাঁর সন্তানেরা। দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে দরবারের সেবায় নিয়োজিত এমন একজন পরম সম্মানিত সূফি ব্যক্তি এবং তাঁর নিরীহ সন্তানদের উপর এমন জঘন্য নির্যাতনের বিচার চেয়ে মামলা (সি আর-৪৬৫/১৮) দায়েরের পর চেয়ারম্যান মিরান এখন খাদেমের সন্তানদের প্রাণে মারবার, গুম করবার এবং মিথ্যা মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ফলে একটি নিরীহ অভিজাত পরিবার আজ নিরাপত্তাহীনতায় কালাতিপাত করছে। চেয়ারম্যান মিরান তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিরোধ মিমাংসার কথা বলে এই বৃদ্ধ খাদেমকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে বেদম মারধর করে এবং বাবাকে বাঁচাতে গেলে সন্তানদের আরো বেশি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। খাদেম পরিবার এতদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর বাড়িতে ফিরলেও মিরান চেয়ারম্যানের খুন-গুমের হুমকিতে আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

আসামিরা গ্রেপ্তার না হবার কারণে আজ নির্যাতিত বিচারপ্রার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করছি। একই সাথে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, কয়েকদিন আগে বরিশাল জেলার কাঠালিয়াতেও একজন মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মৌলানা আবু হানিফাকে মাথায় মল ঢেলে অবমাননাকর ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে শুধু মাওলানা আবু হানিফা বা শিক্ষিত সমাজ নয়, বরং ইসলামকেই চরম অবমাননা করেছে। তিনি বলেন, হঠাৎ করে পীর-ওলামা-মাজারের খাদেমদের উপর এমন নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ নিরপেক্ষ বিচারের অভাব। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহলে সুন্নাতনেতা মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকি হত্যা, মাজারের খাদেম-পীরহত্যার কোন বিচার এদেশে এ পর্যন্ত না হবার প্রেক্ষিতে আমাদের মুসলিম সমাজের পরম সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়জনরা আজ আগের চেয়েও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিচারহীনতার এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বরিশালের উক্ত ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সাথে যে সমস্ত ওলামা-পীর এবং মাজারের খাদেমগণ শহীদ হয়েছেন এর সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি উক্ত ঘটনাদ্বয়ে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল্লামা এম এ মতিন। সংবাদ সম্মেলনে আহলে সুন্নাত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, শাহসূফি দরবারের নির্যাতিত খাদেম ফয়েজ আহমদ ফকির, মাস্টার আবুল হোসাইন, মাওলানা আশরাফ হোসাইন, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, রবিউল হোসাইন, নাজিম উদ্দীন খান, মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ইয়াসিন, আলমগীর হোসেন, শাহসূফি দরবারের নায়েবে মোন্তাজেম খাদেম মাওলানা আবুল হাশেম প্রমুখ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email