চকরিয়ায় ভূমিহীন পরিবারের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয় সাড়ে ৩ একর কৃষি খাসজমি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাড়ে তিন একর কৃষি খাসজমি চূড়ান্তভাবে ভূমিহীন ৪৩ পরিবারের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেখানে রয়েছে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাও।

ইতোপূর্বে এসব কৃষি খাসজমি দখল মোতাবেক বন্দোবস্তি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এক টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে ভূমিহীন পরিবারগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে আবেদন পত্র জমা দেয়। সেই আবেদন যাচাই–বাছাই করে প্রকৃতপক্ষে যারাই এই খাসজমি বন্দোবস্তি পাওয়ার যোগ্য তাদেরকেই চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর পর তাদের নামে জমির দলিল এবং খতিয়ান সৃজনপূর্বক এ সংক্রান্ত কাগজপত্র গতকাল সোমবার(২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপকারভোগী ভূমিহীন এসব নারী–পুরুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এই দলিল এবং খতিয়ান তুলে দেন ভূমিহীনদের মাঝে। এর পর জেলা প্রশাসক প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতির সরঞ্জামও বিতরণ করেন।

এর আগে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন মতবিনিময় সভা করেন চকরিয়া উপজেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম সভায় তুলে ধরেন, এরশাদ সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার নামে বিপুল পরিমাণ চিংড়িজমি যাচ্ছেতাই বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা না হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় শিল্পপতি, কোটিপতিরাও এই চিংড়ি জমি লিজের নামে হাতিয়েছেন। এমনকি গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান ভূমিহীনদের নাম দিয়ে এখানকার বিপুল পরিমাণ চিংড়ি জমি লিজ নিয়েছেন। যেসব শর্ত দিয়ে এই জমি লিজ নিয়েছেন, তা ভঙ্গও করেছেন। তাই এই বিপুল পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধার করেমুক্তিযোদ্ধাদের নামে লিজ দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

উপজেলা চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অচিরেই বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনা করা হবে। যাতে গ্রামীণ ব্যাংক এসব চিংড়ি জমি দখলে রাখতে না পারে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন আরাফাত বলেন, ‘ইতোপূর্বে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা তৈরির পর তা যাচাই–বাছাই করেন কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তি দেওয়া সংক্রান্ত গঠিত কমিটি। পরবর্তীতে ৪৩ জন ভূমিহীন পরিবারকে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করে বরাদ্দ দেওয়া হয় কৃষি খাসজমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪৩ পরিবারকে প্রথমবারের মতো সাড়ে তিন একর কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোন পরিবার দখল অনুযায়ী ১০ শতাংশ, আবার কেউ আরো বেশি পরিমাণ কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছেন।

বিনিময়ে এসব ভূমিহীন পরিবার সরকারী কোষাগারে জমা দিয়েছে এক টাকা করে রাজস্ব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email