চকরিয়ার হারবাং রাখাইন পাড়ায় জলকেলি সম্পন্ন

মোসলেহ উদ্দিন কবি, চকরিয়া। চকরিয়ার হারবাং রাখাইন পাড়ায় নববর্ষ পালন হয়েছে বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ওইদিন ১৩৭৯ মগীসনকে বিদায় জানিয়ে সানন্দে বরণ করা হবে ১৩৮০ মগীসনকে।

বর্ষ বরণে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা প্রতিবছর  সাংগ্রাই পোয়ে (মৈত্রি জলকেলি) উৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালন করা হয়ে থাকে। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে সকলে পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে শুরু করে নব উদ্যমে নতুন বছর।

এসময় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করেন নগদ টাকা, চাল, চিনি, দুধ, কলা, নারিকেল, মোমবাতি, সাবান দেশলাইসহ হরেক রকম পণ্য। গ্রহণ করেন পঞ্চশীল। তারা পঞ্চশীল, অষ্টশীল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করবেন।

এছাড়া রাখাইন পল্লী গুলোতে শিশুরা, রাখাইন তরুন তরুণী জলকেলিতে মেতে উঠেছে।নববর্ষে রাখাইন বয়ষ্ক নারী-পুরুষরা উপবাসও করে থাকেন। এসময় প্রাণী হত্যা, মিথ্যা বলাসহ কমপক্ষে ৮টি দুষ্কর্ম থেকে দূরে থাকতে হয়।
ইতোমধ্যে হারবাং বার্মিজ স্কুল এলাকায় তৈরি করা হয়েছে জলকেলির নান্দিক প্যান্ডেল। রঙিন ফুল আর নানা কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্যান্ডেলের চারপাশ।
সবার মাঝে এখন বর্ষ বরণের আমেজ। রাখাইন এলাকার প্রতিটি বাড়ি সেজছে নতুন সাজে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও ব্যস্ত নতুন কাপড় কিনতে। অনেকেই শেষ করেছেন কেনাকাটার পালা।

উৎসবের মূল লক্ষ্য অতীতের সকল ব্যথা-বে দনা, গ্লানি ভুলে ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। রাখাইন তরুণ-তরুণীরা নতুন ও
আকর্ষণীয় পোশাক পরিধান করে সেজেগুঁজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্লীতে তৈরি করা জলকেলি উৎসবের প্যান্ডেলে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করে।
এসময় বাদ্য বাজিয়ে নাচ-গানসহ চলে আনন্দঘন অনুষ্ঠান। সাথে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার তালে-তালে নেচে উঠেন রাখাইন আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। চলছে উব্বা রাখাইন এর নেতৃত্তে ব্যান্ড সংগীতানুষ্টান।স্কুল মাঠে বসেছে হরেক রকম পন্যের বাজার।
ধর্মীয় আচারাধি শেষে ১৭ এপ্রিল থেকে পুরোনো ও জীর্ণতা মুছে পরস্পরের মাঝে জল ছিটিয়ে নব উদ্যোমে নতুনত্বকে বরণ করার উৎসবে মেতে উঠছে ছোট বড় সকলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email