চকরিয়ার হারবাংয়ে তুচ্ছ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ

 মোসলেহ উদ্দিন কবি।চকরিয়া।|
চকরিয়ার তুচ্ছ ঘটনায় কৃষক জিয়াবুল করিম (৩৫) নামে এক যুবককে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে নির্মম এ ঘটনাটি ঘটেছে।
তবে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর বিষয়টি খবর পান গতকাল ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে। নিহত জিয়াবুল করিম উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড পূর্বনুনাছড়ি গ্রামের মৃত আবদুল মন্নানের পুত্র।
নিহত জিয়াবুল করিমের স্ত্রী দিলতাজ বেগম ও ছোট ভাই মোহাম্মদ শাহেদ জানিয়েছেন, জিয়াবুল করিম একজন সাধারণ কৃষক। তাদের বাড়ির পূর্বপাশ্বে চকরিয়ার সীমান্তবর্তী লামা উপজেলার সোনাইছড়িতে কয়েক কানি জমিতে সবজি ও ধান চাষ করে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় একই এলাকার সৈয়দ আহমদের পুত্র চিহ্নিত গাছ চোর মো: আজিজ গং জিয়াবুল করিমের বাড়ির পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে ২টি গাছ কেটে ফেলে।
এ বিষয়টি গাছ চোর আজিজ গং বনবিভাগকে ভুল বুঝিয়ে হারবাং বনবিট কর্মকর্তাকে নিয়ে এসে জিয়াবুলকে অন্যায়ভাবে আটকের চেষ্টা চালায়।
ওই জিয়াবুল পালিয়ে গেলে পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে আজিজ গং তার ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে দা কিরিছ দিয়ে হত্যার চেষ্টায় জিয়াবুলকে কয়েকবার ধাওয়া করে।
আজিজ গংয়ের হামলা ও বনবিভাগের আটক এড়াতে বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে সোনাইছড়ির নিজ চাষাবাদীতে পাহারা দেয়ার অজুহাতে অবস্থান করেন। ওই সময় খবর পেয়ে উল্লেখিত আজিজের নেতৃত্বে জিয়াবুল করিমকে শ্বাসরোধ করে পরিকল্পিত হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেন।
পরদিন ২৬ এপ্রিল সকালে খবর পেয়ে তার চাষাবাদী জমিতে জিয়াবুলের লাশটি পড়ে আছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন।
নিহতের দরিদ্রপিড়িত সংসারে স্ত্রী দিলতাজ বেগম, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে এবং ১জন ও ১জন ছোট ভাই রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত আজিজ এলাকা থেকে আত্মগোপনে রয়েছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, নিহত জিয়াবুল করিমের বাড়ি চকরিয়ার হারবাং হলেও মারা যাওয়ার স্থানটি পড়েছে পাশ্ববর্তী লামা উপজেলায়।
ঘটনাস্থ চকরিয়া থানা ও লামা পুলিশ যৌথভাবে পরিদর্শন করেছেন। লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, জিয়াবুল করিম নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার বিষয়টি খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা না বিষ পানে আত্মহত্যা তা বুঝা যাবে ময়না তদন্তের পর।
প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টের পর বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
 
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email