চকরিয়ার হাইওয়ে পুলিশের ক্যাশিয়ারের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট যানবাহনের মালিক- শ্রমিক

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট নূরে আলমের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে ক্যাশিয়ার নামধারী সহকারী দারোগা । সাথে রয়েছে ফাঁড়ি পুলিশের মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন নামের মুন্সি পদবীর এক কনস্টেবলও।  তারা দু’জনের অব্যাহত চাঁদাবাজিতে অতীষ্ট হয়ে উঠেছে যানবাহন মালিক-শ্রমিক, চালক ও স্থানীয় জনসাধারণ। মাসোহারা হিসেবে টমটম চালকদেরও মহাসড়কে অবৈধভাবে চালানোর অভিযোগে এ ক্যাশিয়ার ও মুন্সিকে দিতে হয় ২শ’ টাকা করে। আর এমন ভীতি নিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকরা।

এতে সড়ক পুলিশের নিপীড়নমূলক চাঁদাবাজির কারণে মহাসড়কে ঘটে চলেছে দূর্ঘটনা এবং বাড়ছে দূর্ঘটনা জনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার। জানা গেছে, মহাসড়কে সরকার সি.এন.জি চালিত অটো-রিক্সা, ত্রি-হুইলার ও টমটমসহ কমগতি সম্পন্ন গাড়ি চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। কিন্তু এমন নিষেধাজ্ঞাকে পূঁজি করে ভিন্নভাবে কাজে লাগাচ্ছে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট নূরে আলম।

সেই সুবাধে তার প্রকাশ্য ও নেপথ্য মদদে বাণিজ্যিক উৎসবে মেতে উঠেছে দারোগা ক্যাশিয়ার সুমন পাটোয়ারি ও কনস্টেবল মুন্সি বোরহান উদ্দিন। তারা দু’জনই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫টি গাড়ি আটকিয়ে বিভিন্ন কলা-কৌশলে এবং মামলার ভয় দেখিয়ে গাড়ি প্রতি সর্বনিন্ম ৫হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে গভীর রাতে ছেড়ে দেয়।

এভাবে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গাড়ী থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা আয় করে থাকে ফাঁড়ি পুলিশের এ দু’সদস্য। এছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের নামে সড়কে চলাচলরত যান ও মালবাহী গাড়ি থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে সার্জেন্ট নূরে আলম যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দারোগা সুমন পাটোয়ারি ও কনস্টেবল বোরহান উদ্দিনকে সাথে নিয়ে ফাঁড়ির সার্জেন্ট নূরে আলম প্রতিনিয়ত দিন-দুপুরে ৩০-৩৫টি গাড়ি আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতের আঁধারে মোটা অংকের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়ার মতো পরিবেশ বজায় রেখেছেন।

ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, কাগজপত্রে সবকিছু ঠিক থাকা আটককৃত গাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে হলেও; টাকা হাতিয়ে না নেওয়া থেকে বাধ্য নয় চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অতীষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন, ত্রি-চক্র যানবাহন বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, মাহিন্দ্র, টমটমসহ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চিরিংগা ফাঁড়ি পুলিশের দারোগা সুমন ও মুন্সি বোরহানকে মাসোহারা দেওয়ায় এসব নিষিদ্ধ গাড়ি মহাসড়কের জন্য হয়ে উঠে বৈধ।

ফলে সড়কে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে নানান দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগিদের দাবি, নিয়মমাফিক চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হলে হাইওয়ে পুলিশ মাসোহারার আওতাধীন অসংখ্য গাড়িকে ধাওয়া করে ধরতে পিছু নেয় গাড়ির। কিন্তু পুলিশের হাতে আটক এড়াতে গতি নিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা কোন না কোন যানবাহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াচ্ছে ধাওয়াকৃত এসব গাড়ি। যার কারণে চাপের মুখে পড়ে প্রতিনিয়ত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে বলে চালক ও যাত্রীসাধারণের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহাসড়কে চলমান জিপের একাধিক চালক এ প্রতিবেদককে জানান, আসলে অনেক আগেই সরকার তথা বিআরটিএ আমাদের গাড়িগুলোর ফিটনেস না থাকায় সড়কে চলাচলের অযোগ্য ঘোষণা করে।

এরপরও এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যখন আমরা সংসারের জীবিকা নির্বাহের তাড়নায় বাধ্য হয়ে মহাসড়কে গাড়িগুলো নামাই, তখন আমাদের গাড়িগুলোকে ধরতে ধাওয়া করে পিছুনেয় হাইওয়ে পুলিশ। এতে পুলিশের হাতে ‘ধরা খাওয়া’ থেকে বাঁচতে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালাই। এ কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় আমাদের। এভাবে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চকরিয়ার বানিয়ারছড়াস্থ চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তথা সার্জেন্ট নূরে আলমসহ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে মেতে উঠায় বার বার দূর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে গাড়ি ও গাড়ি চালকসহ সর্বসাধারণকে।

চালকরা স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ করে জানান, চিরিংগা হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের সাজেন্ট নূরে আলম, দারোগা সুমন পাটোয়ারি ও কনস্টেবল ড্রাইভার বোরহান উদ্দিন ভোর থেকে বানিয়ারছড়া থেকে বরইতলী, হারবাং ও আজিজনগর পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ওঁৎপেতে থেকে এসব ত্রি হুইলারের সি.এন.জি আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে ৮হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করে আসছে।

এছাড়া বিভিন্ন স্টেশনে থাকা টমটমের গ্যারেজ থেকে টমটম গাড়ি আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। অসহায় এসব টমটম গাড়ী চালকদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি ৫হাজার থেকে ৬হাজার হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৫০হাজার থেকে ৭০হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে এসব টাকা থেকে নামে মাত্র মামলা দিয়ে সরকারকে দেখানো হচ্ছে সামান্য জরিমানার স্লিপ।

এ ব্যাপারে দূর্নীতি পরায়ন দারোগার অপসারণসহ তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে হাইওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগিরা। এদিকে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট নূরে আলমের কাছে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email