ঘোষণা দিয়েও রাস্তায় বাস নামাননি মালিকরা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন সড়কে যানবাহন নামানোর ঘোষণা দিয়েও পর্যাপ্ত যানবাহন নামাননি বাস মালিকরা। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে কার্যত যানবাহনশূন্য ছিলো পুরো রাজধানী। তবে বাস মালিকরা বলছেন, যাত্রী না থাকায় সড়কে যানবাহন নামানো হয়নি।

খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ঘোষণা দেন, যে কোনও ধরনের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকা হবে। ওই দিন সতর্ক পাহারার পাশাপাশি সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন থাকবে। শ্রমিকদের কোনও অস্ত্র নেই। তাই তারা গজারি হাতে সতর্ক পাহারা দেবে। এছাড়া রায়ের পর যদি কোনও হরতাল ঘোষণা করা হয়, হরতালের দিনও মালিক সমিতির পক্ষে মাঠে বাস নামানোর ঘোষণা দেন এই পরিবহন নেতা।

সড়কে পরিবহন সংকট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালের দিকে আমরা বাস নামিয়েছি। কিন্তু রাস্তায় কোনও যাত্রী নেই। রাস্তায় নেমে লোকসান গুনতে হবে। সে জন্যেই বাস নামানো হচ্ছে না। এছাড়া বাস না থাকার অন্য কোনও কারণ নেই।’

সড়কে কী পরিমাণ যানবাহন রয়েছে জানতে চাইলে এই পরিবহন মালিক বলেন,‘এখন ১০ শতাংশ বাস রয়েছে রাস্তায়। যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে বাসের সংখ্যাও বাড়বে।’ নাশকতা এড়াতে ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ হাজার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ঢাকার চারটি স্থানে অবস্থান করছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন নাশকতার আশঙ্কা করেছি, তেমনটা হয়নি। কোথাও কোনও যানবাহনের ক্ষতি করা হয়নি।’

তবে শুধু সড়কে নয়, বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও দেখা যায়নি পরিবহন শ্রমিকদের। ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলিস্তান, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে গজারি হাতে ১৫ হাজার মালিক-শ্রমিক অবস্থান করার কথা। অথচ এসব স্থানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক ছিল না।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় যাত্রী থাকলেও পরিবহনের সংকট রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় খুব প্রয়োজন ছাড়া নগরবাসী বাইরে বের হচ্ছে না। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম। মোড়ে মোড়ে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অনেক স্কুল-কলেজও বন্ধ রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা ‘পাঠাও’, ‘উবার’ ও ‘ইজিয়ার’ বন্ধ রয়েছে। ফলে ঢাকা কার্যত ফাঁকা।

সুপ্রভাত পরিবহনের চালক সুমন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে বাস নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু যাত্রী কম। আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, দেশের এমন পরিস্থিতিতে আমরাও শঙ্কিত হয়ে পড়ি। সে কারণে অন্যরা বাস নিয়ে রাস্তায় নামেনি।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিবহন মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রী থাকুক আর নাই থাকুক, আমাদের লাখ টাকার একটা বাস নষ্ট হলে কেউ ক্ষতিপূরণ দেয় না। সরকার ও পরিবহন মালিক সমিতি নানা কথা বলে। কিন্তু আমরা ক্ষতিপূরণ পাই না। সহিংসতায় অনেক চালক, হেলপার নিহত হয়। এ পর্যন্ত যতজন নিহত হয়েছে তাদের পরিবারগুলো দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। এসব চিন্তাভাবনা করেই বাস নামায়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email