গলাচিপায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরেণর পর ধর্ষণ, প্রতিবাদে সহপাঠিদের মিছিল ও সমাবেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর গলাচিপায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে চাকু’র ভয় দেখিয়ে অপহরণ এবং ধর্ষণ করার ঘটনার প্রতিবাদ ি ও সমাবেশ করেছে পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল পানপট্টি মুক্তিযুদ্ধা হাট প্রদক্ষিণ শেষে বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তৃতা করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বি ইসলাম, সাব্বির হোসেন, দশম শ্রেণির অপু ও নাইমুল ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা অপহরণকারী, ধর্ষক এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল চৌকিদার, ইব্রাহিম ও ইমরানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। তারা বলেন, এসকল সন্ত্রাসীরা এলাকায় ফিরে আসলে আবারো তাদের কু-কর্ম চালিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করে দিবে।

উল্লেখ্য, অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর চাচা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জুলাই রুবেল চৌকিদারকে প্রধান আসামী করে ইব্রাহিম প্যাদা ও ইমরানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই গলাচিপা থানা পুলিশ রুবেল, ইব্রাহিম প্যাদা ও ইমরানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ঘটনার দিন ১৫ জুলাই নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী বেলা আনুমানিক ১১.২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের খেলা ধুলা শেষে ওই শিক্ষার্থী ও তার এক সহপাঠিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ওই শিক্ষার্থী স্কুল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তুলাতলী গ্রামের জনৈক বারেক আকনের বাড়ির পূর্ব পাশের পাকা রাস্তায় পৌঁছলে অপহরণকারী রুবেল, ইব্রাহিম ও ইমরান পথ রোধ করে। এক পর্যায় ওই শিক্ষার্থীর হাত ধরে টানাটানির করতে থাকে। এসময় সঙ্গে থাকা বিদ্যালয়ের আরেক মেয়ে সহপাঠি বাধা দিলে রুবেল তার পকেটে থেকে চাকু বের করে নিজের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে সহপাঠিকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এসময় একা ওই শিক্ষার্থীকে ভয় দেখিয়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং অপর সহযোগীদের সাহায্যে মোবাইলে ছবি তুলে রাখে। এক পর্যায় অপহৃত শিক্ষার্থীকে পানপট্টির কাপালি বাড়ির পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন।

এ প্রসঙ্গে পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রঞ্জন রায় বলেন, ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া জাকির জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরেই আমরা অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ইতিমধ্যেই ভিকটিমের মেডিকেল টেষ্ট সম্পন্ন হয়েছে। ভিকটিমের ২২ ধারায় জবানবন্ধী গ্রহণ করেছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ ছাড়া ধর্ষণের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট কমিনিটি পুলিশিং সভা করেছি। এছাড়াও ওই এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মুকিম // বৃহস্পতিবার ,১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email