ক্ষতিপূরণ না দিয়েই এলিভেটেড এক্সপ্রেসের উচ্ছেদের কাজ শুরুর অভিযোগ

কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিয়েই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে পিপিপি প্রকল্পের উচ্ছেদের কাজ শুরু

নিউজ ডেস্কঃ ৩০০ ব্যবসায়ী এবং ৭৫০ কর্মচারীকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়েই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে পিপিপি প্রকল্পের উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই উচ্ছেদের কাজ শুরু করা হয়। কারওয়ান বাজার এলাকার রেলওয়ে সংলগ্ন ওয়েলডিং, ফার্নিচার এবং কাচের দোকানগুলোর জায়গায় এই উচ্ছেদের কাজ চলছে।

জানা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে রেলওয়ের কাছ থেকে অনির্ধারিত সময়ের জন্য জমি লিজ নেয় সেখানকার বর্তমান ব্যবসায়ীরা। সেই সময় সর্বনিম্ন একেকটি দোকান ৪০ হাজার ৮০০ টাকায় লিজ নেয়া হয়েছিল।

এই প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের নিতিমালা থাকলেও সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে বলে অভিযোগ উঠছে।

তেজগাঁও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুস শুকুর প্রধান বলেন, সেতু বিভাগ থেকে ২৬ জন কর্মচারীকে ক্ষতি পূরণের টাকা দিয়েছে। তারপর সেতু বিভাগ থেকে বাকি কর্মচারীদের বলা হয় ধাপে ধাপে তাদের টাকা দেয়া হবে। তারা তেজগাঁও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কাছ থেকে একটা লিস্টও নিয়েছিল। কিন্তু পরে আর কেউ কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পায়নি।

নিতিমালায় লেখা রয়েছে, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ীদের এককালীন টাকা হিসাবে তিন মাসে ধাপে ধাপে টাকা দেয়া হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি মাসে ২০, মাঝারি ব্যবসায়ী ৫০ এবং বড় ব্যবসায়ীদের ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হবে। এছাড়াও তাদের মার্কেট স্থানান্তর করে দেওয়া হবে। এই সব নিতিমালা কাগজে থাকলেও বাস্তবে কোন কিছুই হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে গত ১৮ মাস থেকে ব্যবসায়ীরা রেল কর্তৃপক্ষ এবং সেতু বিভাগের সঙ্গে বেশ কয়েকটি মিটিং করলেও আশ্বাস পাওয়া ছাড়া কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানান তারা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে পিপিপি প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে কথা বলা আমার নিষেধ আছে।
তেজগাঁও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সদস্য মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে এখানে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এটা আমাদের রুটি-রুজি। কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা কোথায় যেয়ে দাঁড়াবো। কোথাও নতুন করে দোকান নিয়ে ব্যবসা করা আমাদের পক্ষে এখন সম্ভব না।

মার্কেটের ফার্নিচারের ব্যবসায়ী হালিম ব্যাপারী বলেন, কারওয়ান বাজারে রেলওয়ে সংলগ্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী এবং কর্মচারীকে কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। অথচ তেজগাঁওয়ের কলাপট্টি, মুরগিপট্টি এমনকি সেখানকার বস্তির লোকদেরকেও ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে এবং তাদের উচ্ছেদেও করা হচ্ছে না। তাহলে আমরা কি দোষ করেছি যে আমাদের সঙ্গে এমন করা হচ্ছে।

তেজগাঁও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুস শুকুর প্রধান বলেন, তেজগাঁও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কাছে তথ্য রয়েছে যে, সেতু বিভাগের কাছ থেকে রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট মার্কেট স্থানান্তর করার ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা পেয়েছে। তাহলে সেই টাকা আমরা পাচ্ছি না কেন?

রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এর উপ প্রশাসন হাবিবুর রহমান বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ এখন আমাদের মার্কেট করার জন্য কোনো জায়গা বুঝিয়ে দেয়নি। জায়গা বুঝিয়ে দিলেই আমার মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করবো।

জায়গা বুঝে না পেলে রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা কেন হস্তান্তর করলো-এমন প্রশ্ন করা হলে হাবিবুর রহমান বলেন, টাকা আমি পেয়েছি তবে সেটি আমার কাছে গচ্ছিত রয়েছে।

মুকিম // বুধবার ,১৮ জুলাই ২০১৮ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email