কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটের আওতা থেকে পরীক্ষা বাদ

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটের আওতা থেকে পরীক্ষা বাদ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পরীক্ষাগুলো ধর্মঘটের আওতামুক্ত রেখে শুধু ক্লাস বর্জন চালিয়ে যাবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজেদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, সামনে রমজান হওয়ার কারণে পরীক্ষা বর্জন করলে সেশন জটে পড়ার সম্ভবনা আছে। তিনি সবাইকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

মামুন বলেন, কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে সরকারের উচ্চ-পর্যায় থেকে আমাদের আবারও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন চেয়ে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। তবে কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে গত রোববার বিক্ষোভ শেষে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বেশ কয়েক দফায় আল্টিমেটাম শেষে গত রোববার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন দাবিতে আন্দোলনকারীদের আল্টিমেটামে গতকাল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, কোটা নিয়ে আমি তো আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি। আমরাতো বলেছি, আমরা এটা করবো। কিন্তু এখনই এটা করতে হবে? এ জন্য তো সময় লাগবে। আমি তো বলেছি কোটা থাকবে না। এরপরও আল্টিমেটাম, আন্দোলনের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এটার তো কোনো যুক্তি নেই। কোটার বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে। তারপরও হুমকি দেয়াটা বাড়াবাড়ি।

আবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা বিষয়ে শিগিগিরই সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

কোটার বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গতকাল বলেন, ‘কোটা নিয়ে আলোচনা (মন্ত্রিসভা বৈঠকে) হয়নি। কিন্তু কোটাটা প্রক্রিয়াধীন আছে, হয়তো কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে। আমি যতদূর শুনেছি এর (কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন) সামারি (সার সংক্ষেপ) অলরেডি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে (প্রধানমন্ত্রীর কাছে) চলে গেছে। হয়তো আমরা শিগগিরই সিদ্ধান্ত পাব, ইনশাল্লাহ।

গত ৮ এপ্রিল থেকে টানা পাঁচ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

গত ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email