কোটাপ্রথার বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন চেয়ে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটাপ্রথার বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন চেয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। আজ দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দুই যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এবং মুহাম্মদ রাশেদ খান।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টা থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে তালাও দেয়া হয়। দফায় দফায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন তারা। সকালের মিছিল থেকে ‘আর নয় কালক্ষেপণ দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই’, ‘কোটা দিয়ে কামলা নয় মেধা দিয়ে আমলা চাই’ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ৭ মে পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারির সময় বেঁধে দেয় আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আবার রাজপথে নামে তারা। এরপর গতকাল রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানায় আন্দোলনকারীরা। গতকাল পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জস করে ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিল নিয়ে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী শাহবাগে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন চলতিপথের যাত্রীরা। এসময় বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, কাঁটাবন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মৎস্যভবন মোড়, প্রেস ক্লাব এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ১৫০ জন ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। এর বাইরে বিশৃঙ্খলা করলে তার দায় নেবেন না তারা। দুষ্কৃতকারী পেলেই প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন তারা।

এদিকে সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা শাটল ট্রেন অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।

আন্দোনকারীরা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সকাল থেকে নগরের ষোলশহর স্টেশনে অবস্থান নেন। সকাল ৮টার শাটল ট্রেনটি ছেড়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন। ফলে সকাল থেকে কোনো শাটল ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ছেড়ে যায়নি।

এদিকে নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার সাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের অবরোধের কারণে সকাল ৮টার শাটল ট্রেন যাত্রা করেও যেতে পারেনি। এরপর থেকে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল থেকে দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। রোববার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান।

এসময় সংগঠনটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। ৩২দিন পার হলেও এখনও প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। আমাদের সঙ্গে সরকার ওয়াদা করেছে ৭ মের মধ্যে প্রজ্ঞাপন হবে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপন এখনও জারি করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন কোটা থাকবে না। তার কথাই অলিখিত আইন। কিন্তু এরপরও আমরা শুনছি, এখন কমিটি করা হয়েছে। আমরা আর অপেক্ষা করতে চাই না।

এদিকে রোববার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কথার ওপরে বিশ্বাস রাখা উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা বলেন, সেটা তিনি করেন। প্রধানমন্ত্রীর কথা নড়চড় হয় না। অনেকগুলো কোটা আছে। এগুলো সমন্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজ থেমে নেই। আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।

গত ৮ এপ্রিল থেকে টানা পাঁচদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটাব্যবস্থা বাতিলের কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা নিয়ে যখন এতোকিছু, তখন কোটাই থাকবে না। কোনো কোটারই দরকার নেই। যারা প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ১০ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান জানান, কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email