কেডি সুমন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি হাইকোর্টে খালাস

ময়মনসিংহের তারিকুল হুদা সুমন ওরফে কেডি সুমন (২৪) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সাইদুল ইসলাম সাইদ ওরফে সাইদুলসহ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে রোববার(২৫মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
সাইদুল ছাড়াও বাকি ছয় আসামি হলেন- মো. আব্দুল বারী ওরফে বাদল, মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপু, শাহাদাত হোসেন দুখু, জুটন বণিক, হালিম ও শামীম ওরফে কাইল্যা শামীম।
আদালতে আসামি সাইদুলের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান ফরিদ। পাশাপাশি যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক ও সাইফুর রহমান রাহি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুর রহমান রাহি সাংবাদিকদের বলেন, সুমন হত্যার ঘটনায় একটি বল্লম উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু বিচারের সময় সেই বল্লমের কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট করা হয়নি। এ ছাড়াও এ মামলার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে যারা সাক্ষী দিয়েছেন তারা মামলার শুরুতে আসামিদের নাম বলতে না পারলেও ঘটনার দেড় বছর পর তারা আসামিদের নাম বলেন। এরপরও বিচারিক আদালত তাদের সাজা দেয়। সেই সাজার বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে এলে তাদের খালাস দেয়া হয়।

২০০৬ সালের ৬ মে ময়মনসিংহ শহরের বুড়াপীরের মাজার সংলগ্ন এলাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারিকুল হুদা সুমনকে কুপিয়ে ও পেটের ভেতর শাবল ঢুকিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে সুমনের ভাই নাজমুল হুদা রনি ও আরমান নামে দুই আসামির নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ চৌধুরী ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ এ মামলার আসামি সাইদুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম বিপুসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে পৃথক পৃথকভাবে তারা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়।
এরপর ২০১১ সালের ১০ জুন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা আদালত-২ তে এ মামলার রায়ে আসামি সাইদুল ইসলাম সাইদ ওরফে সাইদুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং মো. আব্দুল বারী ওরফে বাদল, মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপু, শাহাদাত হোসেন দুখু, জুটন বণিক, হালিম ও শামীম ওরফে কাইল্যা শামীমকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়। পরে এ সাজার বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুলের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে। সেই শুনানি শেষে আদালত রোববার(২৫মার্চ) এ রায় দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email