কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তরের পরিকল্পনায় আধুনিক কারা আইন ও কারাবিধি প্রণয়ন : আইনমন্ত্রী

কারাগারকে সংশোধনাগারে পরিণত করতে আধুনিক কারা আইন ও পরিবর্ধিত কারাবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘কারাবন্দিদের দুর্দশা লাঘবে আইনি কাঠামো তৈরি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি। কারাবন্দিদের মামলা যথাসময়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনগত সহায়তা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া গ্রহণেও আমরা গুরুত্ব দিয়েছি।’

শনিবার(২৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা।

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত যেসব সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তাদের বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তাই তারা শুধু জাতির পিতার দেওয়া সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে নাই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় সরকার গঠন করলে ওই আইনের বাস্তবায়ন কার্যক্রমকে বেগবান ও ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয় কতিপয় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। কার্যকর করা হয় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাকে। উক্ত সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের ৬৪ জেলায় জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্ব গঠন করা হয় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং চৌকি আদালতসহ সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করে সেখানে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এছাড়া দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল স্থাপন করে সেখানে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

আনিসুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে বিনা বিচারে কেউ যেন কারাগারে আটক না থাকেন এবং মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তার এই নির্দেশনার আলোকে সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ করে কারাবন্দিদের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

আইন সচিব আবু সালেহ শেখ জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজেসলেটিভ বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থারর পরিচালক জাফরুল হাছান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email