করোনায় শিশুর বিকাশ

নাবিলা ইবনাদঃ

করোনায় লকডাউনের প্রভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। খেলাধুলা কররার এই সময়ে কাটাতে হচ্ছে ঘরবন্দি জীবন। শিশু বয়সে তারা সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করে, বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, সামাজিকতা শিখে। কিন্তু র্বতমান অবস্থায় ঘরে বসে তারা একাকীত্ব বোধ করছে যা তাদের বুদ্ধির বিকাশে সুফল বয়ে আনছে না। একটি শিশুর সময় কাটানোর জন্য অন্য শিশুর প্রয়োজন হয় যাতে তারা একে অপরকে বুঝতে পারে, চেনার চেষ্টা করে যা তাদের মাঝে সামাজিকতা ও বুদ্ধির বিকাশে সহায়ক হয়।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় বেকারত্ব, দারিদ্র, ক্ষুধাও যেন কোভিড-১৯ এর অন‌্যতম উপসর্গ হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাস আতঙ্ক শুরু হওয়ার পর থেকে শিশুরা এমনিতেই মানসিক চাপে ভুগছে। কারন স্কুল নেই, বন্ধুদের সাথে দেখা নেই, খেলা নেই, ঘরের চার দেয়াল ছাড়া কোথাও বেড়াতে যাওয়ার উপায় নেই। তার ‍উপর পরিবার গুলোতে দেখা দিচ্ছে আর্থিক সংকট। সৃষ্টি হয়েছে পুষ্টিকর খাদ্যাভাব।সাধারনের তুলনায় শিশুদের পুষ্টি চাহিদা বেশি হওয়ায় তাদের সুষম বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

একটি শিশুর হাঁটা, কথা বলা, দৌড়ানো, ছবি আঁকা, এসকল কিছু শিশুর বিকাশের একটি অংশ। যা এই পরিস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পিডিয়াট্রিশিয়ান ডা. রিয়াজ মোবারক মনে করেন, “শিশুর পুষ্টির অভাব হলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।ফলে অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকবে। আর অন্যদিকে আরেকটি শিশুর সংস্পর্শে আসার সুযোগ শিশুরা সবচেয়ে বেশি পায় স্কুলে, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের পরিবারে। যা র্বতমানে নেই বলা চলে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, “দীর্ঘ লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকার কারণে মন্দা, বেকারত্ব ও দারিদ্রতার হার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুরা ব‌্যপক হারে স্কুল থেকে ঝরে পরবে। শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, শিশু পাচারের সংখ‌্যা বৃদ্ধি পাবে ।”

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বলছে, ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রমের হার কমেছিল ৯৪ শতাংশ কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এর প্রবণতা উল্টো পথে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শিশু আবারো শিশুশ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হবে বলে সংস্থাটি আশংকা প্রকাশ করছে।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও সৃষ্টি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। সরকারি টেলিভিশনে পাঠদানের বিষয়টি অনেকেই অবগত নন। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষায় যে ঘাটতি হচ্ছে, আগামী বছরেও হয়ত সেটা কাটিয়ে ওঠা কঠিন বলে ভাবছেন বিশেষঞ্জরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error

নিউজ টি শেয়ার করুন :)

Instagram
LinkedIn
Share
Follow by Email